× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

তাইওয়ান ইস্যুতে কড়া হুঁশিয়ারি ও রাজকীয় অভ্যর্থনা: বেইজিংয়ে ট্রাম্প-শি বৈঠক

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৫ মে ২০২৬, ০০:৪৮ এএম । আপডেটঃ ১৫ মে ২০২৬, ০১:৪৪ এএম

বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে রাজকীয় অভ্যর্থনা জানাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ছবি: নিউ ইয়র্ক টাইমস

বিশ্বের দুই শীর্ষ শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিংয়ে শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এক নজিরবিহীন রাজকীয় অভ্যর্থনা জানান চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সফরের প্রথম দিনেই একদিকে যেমন আতিথেয়তা ও বাণিজ্যিক অংশীদারিত্বের সুর শোনা গেছে, তেমনি অন্যদিকে তাইওয়ান ইস্যুতে ওয়াশিংটনকে সরাসরি যুদ্ধের চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়ে বেইজিং স্পষ্ট করেছে তাদের অবস্থান।

সম্মেলনের সূচনায় শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজ ও শিশুদের উল্লাসের মধ্য দিয়ে বরণ করে নেন। এই আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে অভিভূত ট্রাম্প শিশুদের উচ্ছ্বাসের প্রশংসা করে একে ‘সর্বকালের সেরা শীর্ষ সম্মেলন’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে আনুষ্ঠানিকতার আড়ালে দুই নেতার বক্তব্যে ফুটে ওঠে গভীর চারিত্রিক ও কৌশলগত ভিন্নতা। শি জিনপিং যেখানে প্রাচীন গ্রিসের ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’-এর উদাহরণ টেনে সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংঘাত এড়ানোর দার্শনিক আহ্বান জানান, সেখানে ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ বাচনভঙ্গিতে বড় বড় ব্যবসায়িক চুক্তির ওপর জোর দেন।

বৈঠকের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ ছিল তাইওয়ান প্রসঙ্গ। চীনা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানায়, শি জিনপিং অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যুটি যদি ভুলভাবে সামলানো হয়, তবে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ বা বড় কোনো সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়বে। শি জিনপিংয়ের ভাষায়, “যদি বিষয়টি ভালোভাবে সামলানো যায়, তবে দুই দেশ স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারবে। অন্যথায় এটি পুরো মার্কিন-চীন সম্পর্ককে এক অত্যন্ত বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে।” যদিও এ নিয়ে ট্রাম্প তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।

বাণিজ্যিক স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ট্রাম্পের এই সফরে সঙ্গী হয়েছেন অ্যাপলের টিম কুক, টেসলার ইলন মাস্ক এবং এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াংয়ের মতো শীর্ষ পর্যায়ের মার্কিন উদ্যোক্তারা। ট্রাম্প চীনা নেতাকে আশ্বস্ত করেন যে, আমেরিকার সেরা ব্যবসায়ীরা চীনকে সম্মান জানাতে এবং নতুন বাণিজ্যের সন্ধানে এখানে এসেছেন। তবে এই ব্যবসায়ী দলের মধ্যে ট্রাম্পের পুত্র এরিক ট্রাম্পের উপস্থিতি নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। হোয়াইট হাউসের দাপ্তরিক কাজে পারিবারিক ব্যবসায়িক স্বার্থের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন একে ব্যক্তিগত সফর হিসেবে দাবি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের এই বৈঠক কেবল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নয়, বরং আগামী দিনের বৈশ্বিক ব্যবস্থার গতিপথ নির্ধারণ করবে। তাইওয়ান নিয়ে বেইজিংয়ের কড়া বার্তা এবং ট্রাম্পের বাণিজ্যিক কূটনীতি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকে সংঘাত নাকি স্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.