নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। ছবি: ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের ভিডিও থেকে সংগৃহীত
ভারতের নবনির্বাচিত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সীমান্ত নীতি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে মুখ খুলেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা ভারতের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সিদ্ধান্তকে সেই প্রেক্ষাপটেই দেখছে দিল্লি।
রণধীর জয়সোয়াল সাংবাদিকদের জানান, পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের জন্য বিএসএফ-কে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তটি সীমান্ত সুরক্ষার একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ভারত সরকার নিরাপত্তার স্বার্থে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তবে বাংলাদেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো সরাসরি মন্তব্য করা হয়নি।
শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার গত সোমবার তাদের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশের সাথে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের সুবিধার্থে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে বিএসএফ-কে প্রয়োজনীয় জমি বুঝিয়ে দেওয়া হবে।
মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেন, “সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার। এই সিদ্ধান্ত আমরা সেই দৃষ্টিতেই দেখি।” যদিও এই পদক্ষেপ ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে কোনো টানাপড়েন সৃষ্টি করবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নীরবতা বজায় রাখেন।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এর আগে মন্তব্য করেছিলেন যে, বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতারকে ভয় পায় না।
ব্রিফিংয়ে জয়সোয়াল বলেন, “ভারতে অবৈধভাবে বসবাস করছেন এমন ২ হাজার ৮৬০ জনের বেশি মানুষের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশকে অনেক আগে অনুরোধ করা হয়েছে। ভারত মনে করে তারা বাংলাদেশি, কিন্তু ঢাকা এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত তথ্য জানায়নি।” তিনি আরও বলেছেন, দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় অনুপ্রবেশ সবসময়ই একটি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা।
তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে কূটনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় দেন। তিনি বলেন, “বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ঘটনার ওপর আমাদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থাকে। এ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম নয়।”
তিনি আরও বলেন, প্রতিবেশীদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত সবসময়ই 'পারস্পরিক স্বার্থ'-কে প্রাধান্য দেয়। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ভারত সম্পর্ককে গঠনমূলক ও ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখতে চায় এবং সেই মনোভাব অপরিবর্তিত রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের কঠোর সীমান্ত নীতি এবং তিস্তা প্রকল্পে চীনের আগ্রহের মতো বিষয়গুলো দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আজকের বক্তব্য স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, দিল্লি একদিকে যেমন নিরাপত্তার প্রশ্নে আপসহীন, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতেও আগ্রহী। তবে ঝুলে থাকা ইস্যুগুলোর সমাধান আগামী দিনে দুই দেশের কূটনৈতিক দক্ষতার ওপরই নির্ভর করছে।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
