পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার রাজ্যের পাবলিক রোড বা সড়কে সব সড়কে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই এই কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল, যা মূলত কলকাতার রেড রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বড় মাপের ধর্মীয় জমায়েতের অবসান ঘটাবে।
বিজেপির প্রভাবশালী বিধায়ক অর্জুন সিং মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'ইন্ডিয়া টুডে'-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে সরকারের এই অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, "এখন থেকে জনজীবনে বিঘ্ন ঘটিয়ে রাস্তায় কোনো প্রকার ধর্মীয় প্রার্থনা বা জমায়েত বরদাস্ত করা হবে না।"
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে নয়, বরং উচ্চ আদালতের পুরনো নির্দেশনা কার্যকর করার একটি আইনি প্রক্রিয়া। অর্জুন সিংয়ের ভাষ্যমতে, "রেড রোডের মতো কৌশলগত ও জনবহুল স্থানে এ ধরনের বড় জমায়েত আর দেখা যাবে না। বিচারবিভাগীয় নির্দেশ মেনেই সরকার এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর।"
উল্লেখ্য, গত বছর কলকাতার রেড রোডে ঈদুল আজহার নামাজ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। এলাকাটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে হওয়ায় ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রথমে সামরিক মহড়ার কারণ দেখিয়ে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে সূচি পরিবর্তন করে নামাজের অনুমতি দেওয়া হলেও নতুন সরকার এখন স্থায়ীভাবে সড়কে এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধের পথে হাঁটল।
ধর্মীয় জমায়েতের পাশাপাশি গরু পাচার রোধেও 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে নতুন প্রশাসন। নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে অর্জুন সিং হুঁশিয়ারি দেন যে, গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভূতপূর্ব কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতা গ্রহণের শুরুতেই শুভেন্দু সরকারের এই জোড়া পদক্ষেপ রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার প্রশ্নে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি হিন্দুত্ববাদী অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নেরই প্রতিফলন। তবে বিরোধী পক্ষ বা ধর্মীয় সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।