ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, চলমান সংঘাত নিরসনে তেহরানের পক্ষ থেকে পেশ করা ১৪-দফা প্রস্তাব মেনে নেওয়া ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর কোনো কার্যকর বিকল্প নেই। সোমবার (১১ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেন, ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই প্রস্তাব গ্রহণ করা অনিবার্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তাঁর এই মন্তব্য তেহরানের কঠোর অবস্থানেরই প্রতিফলন।
গালিবাফ উল্লেখ করেন যে, মার্কিন নীতিনির্ধারকরা যত বিলম্ব করবেন, পরিস্থিতি ততটাই জটিল হবে। তিনি বলেন, “১৪-দফা প্রস্তাবে বর্ণিত ইরানি জনগণের অধিকার মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। অন্য যেকোনো পন্থা অবলম্বন করা হবে সম্পূর্ণ নিষ্ফল, যা একের পর এক ব্যর্থতা ছাড়া আর কিছুই বয়ে আনবে না।”
স্পিকার আরও বলেন, “তারা যত গড়িমসি করবে, আমেরিকান করদাতাদের এর জন্য তত বেশি মূল্য দিতে হবে।” মূলত ওয়াশিংটনের অর্থনৈতিক স্বার্থের দিকে ইঙ্গিত করে এবং প্রতিরোধকে জাতীয় অধিকার হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান যুদ্ধাবস্থা নিরসনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান তাদের জবাব পাঠালেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্প এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি মাত্রই ইরানের তথাকথিত প্রতিনিধিদের পাঠানো জবাবটি পড়লাম। এটি আমার পছন্দ হয়নি—এটি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।”
বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই অনমনীয় মনোভাব মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ইরানের এই ১৪-দফা প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো জনসমক্ষে না এলেও, গালিবাফের বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে তেহরান তাদের জাতীয় স্বার্থে কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নয়। কূটনৈতিক পথে দ্রুত কোনো সমাধান না এলে এই সামরিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।