× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন ঘাঁটি, বিমান হামলায় নিহত ইরাকি সেনা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১১ মে ২০২৬, ০৪:০৪ এএম । আপডেটঃ ১১ মে ২০২৬, ০৪:০৬ এএম

স্যাটেলাইট চিত্রে ইরাকের মরুভূমিতে ইসরায়েলের গোপন সামরিক ঘাঁটির দৃশ্য। ছবি: প্ল্যানেট ল্যাবস

ইরানে বিমান হামলা পরিচালনার সুবিধার্থে ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিতে গোপনে একটি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্রের জ্ঞাতসারে নির্মিত এই লজিস্টিক কেন্দ্রটি মূলত ইরানে ক্ষতিগ্রস্ত ইসরায়েলি পাইলটদের উদ্ধারে ‘সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ মিশন এবং বিশেষ কমান্ডো অভিযানের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মার্চ মাসের শুরুর দিকে ইরাকি বাহিনী দুর্ঘটনাক্রমে এই গোপন আস্তানার হদিস পেয়ে গেলে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করে। স্থানীয় এক রাখালের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকি সেনাবাহিনী অনুসন্ধানে গেলে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিত হামলা চালায়। ইরাকের সামরিক বাহিনীর ‘জয়েন্ট অপারেশনস কমান্ডের’ ডেপুটি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাইস আল-মুহাম্মাদাওয়ি এই ঘটনাকে বাগদাদের সঙ্গে কোনো সমন্বয় ছাড়াই চালানো একটি ‘বেপরোয়া অভিযান’ বলে অভিহিত করেছেন।

ইরাকি বাহিনীর ওপর চালানো সেই হামলায় একজন সেনা নিহত এবং দুইজন আহত হন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল মুহাম্মাদাওয়ি বলেন, “অভিযানটি কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই চালানো হয়েছিল। পথে আমাদের ইউনিটগুলো তীব্র গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে। সেখানে একটি নির্দিষ্ট বিদেশি বাহিনী অবস্থান করছিল এবং বিমানবাহিনী তাদের সুরক্ষা দিচ্ছিল, যার মোকাবিলা করার সামর্থ্য আমাদের ইউনিটের ছিল না।”

সূত্রমতে, ইরাকের আনবার প্রদেশের আল-নুখাইব এলাকার কাছে অবস্থিত এই স্থাপনাটি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের জন্য অস্থায়ী ‘ফরওয়ার্ড আর্মিং ও রিফুয়েলিং পয়েন্ট’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। এমনকি ইসফাহানের কাছে একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর পাইলটদের উদ্ধারেও এই ঘাঁটির ইসরায়েলি সেনারা সহায়তা করেছিল। তবে ইরাক সরকার এই অনুপ্রবেশের কঠোর নিন্দা জানিয়ে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করে এবং এই ঘটনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান থেকে প্রায় এক হাজার মাইল দূরে অবস্থিত ইসরায়েলের জন্য এই ধরনের অগ্রবর্তী ঘাঁটি কৌশলগতভাবে অপরিহার্য ছিল। হরাইজন এনগেজের গবেষণা প্রধান মাইকেল নাইটস বলেন, “ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় বিশাল জনশূন্য মরুভূমি অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপনের জন্য একটি আদর্শ স্থান। ১৯৯১ ও ২০০৩ সালেও মার্কিন স্পেশাল ফোর্স এই এলাকাটি ব্যবহার করেছিল।”

ইসরায়েলের তৎকালীন বিমানবাহিনী প্রধান তোমের বার মে মাসের শুরুতে এক চিঠিতে লিখেছিলেন, “সম্প্রতি বিমানবাহিনীর বিশেষ ইউনিটের যোদ্ধারা এমন কিছু বিশেষ মিশন পরিচালনা করছেন, যা কল্পনাকেও হার মানাতে পারে।” বর্তমানে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও ইরাকের ভূখণ্ডে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির এই তথ্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করেছে।


তথ্যসূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.