হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহার, মিত্রদের ওপর অর্থনৈতিক চাপ এবং ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দীর্ঘদিনের কৌশলগত অংশীদারদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ঐতিহাসিক ফাটল আরও প্রশস্ত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক একপাক্ষিক পদক্ষেপগুলো ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করেছে, যা বিশ্বব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের একক আধিপত্যকে দীর্ঘস্থায়ী ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
দশ সপ্তাহের তীব্র উত্তেজনার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির দিকে এগোলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর ক্ষত গভীর হচ্ছে। বিশেষ করে ন্যাটোর সঙ্গে ট্রাম্পের সংঘাত এবং জার্মানি থেকে ৫ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা আটলান্টিক ওপারের মিত্রদের ক্ষুব্ধ করেছে। চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সমালোচনায় ক্ষুব্ধ হয়ে পেন্টাগন কেবল সেনা কমানোর সিদ্ধান্তই নেয়নি, বরং জার্মানিতে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনাও বাতিল করেছে।
মিত্রদের সঙ্গে এই বিবাদের মূলে রয়েছে যুদ্ধের ব্যয়ভার ও সামরিক কৌশল নিয়ে মতপার্থক্য। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এই অসন্তুষ্টির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের সময় ইউরোপের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুরোধ স্বাগতিক দেশগুলো প্রত্যাখ্যান করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মিত্রদের ওপর অত্যন্ত বিরক্ত। এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে যুক্তরাজ্য ও স্পেনের মতো নিকটতম সহযোগীরাও এখন ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ ও কূটনৈতিক হুমকির লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
সাবেক ওবামা প্রশাসনের উপদেষ্টা ব্রেট ব্রুয়েন পরিস্থিতির ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলেন, “ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের বেপরোয়া মনোভাব নাটকীয় কিছু পরিবর্তন আনছে। এখন খোদ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসযোগ্যতাই চরম ঝুঁকির মুখে।”
এই আস্থার সংকটে মিত্ররা এখন বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজস্ব প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানো ও যৌথ অস্ত্র উৎপাদনের দিকে ঝুঁকছে। জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকেশি ইওয়ায়া এই পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে সতর্ক করে বলেন, “সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ও সম্মান দিন দিন কমছে। এটি পুরো অঞ্চলে একটি দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক ছায়া ফেলতে পারে।”
ওয়াশিংটনের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের সুযোগ নিতে ওত পেতে আছে বেইজিং ও মস্কো। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির উচ্চমূল্য রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে, আর চীন নিজেকে ট্রাম্পের তুলনায় অধিকতর 'স্থির ও নির্ভরযোগ্য' অংশীদার হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ পাচ্ছে। আগামী সপ্তাহে ট্রাম্পের চীন সফরকে কেন্দ্র করে বিশ্বরাজনীতির মেরুকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
