লেবাননের সাকসাকিয়েহ গ্রামে ইসরাইলি বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মাঝে প্রিয়জনদের খুঁজছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ছবি: সংগৃহীত
তিন সপ্তাহের জন্য ঘোষিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও লেবাননজুড়ে নতুন করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। শনিবার (৯ মে) দিনভর চালানো এই ধারাবাহিক অভিযানে এক শিশু ও দুই বিদেশি নাগরিকসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননের ৯টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের সতর্কতা জারি করেছে তেল আবিব, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে ফের অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলাটি হয়েছে সাকসাকিয়েহ গ্রামে। সেখানে ইসরাইলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এক শিশুসহ অন্তত ৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া নাবাতিয়েহ এলাকায় চালানো অন্য এক হামলায় এক সিরীয় নাগরিক ও তাঁর কন্যা নিহত হন। নাহরাইন, সাদিইয়াত এবং হাবুশ এলাকায় পৃথক পৃথক বিমান হামলায় আরও ৯ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে উদ্ধারকারী দলগুলো।
হামলার তীব্রতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকায় উচ্ছেদ আদেশের ফলে নতুন করে মানবিক সংকটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইসরাইলি সামরিক মুখপাত্রের পক্ষ থেকে বাসিন্দাদের অবিলম্বে উত্তর দিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে জানানো হয়েছে, "নির্দিষ্ট এলাকায় হিজবুল্লাহর সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।" এই নির্দেশের পরপরই হাজার হাজার লেবানিজ নাগরিক আতঙ্কিত হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঘরবাড়ি ছাড়তে শুরু করেছেন।
যুদ্ধবিরতি চলাকালীন এমন আকস্মিক সামরিক তৎপরতাকে 'আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন' হিসেবে দেখছে বৈরুত। লেবাননের একজন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "যখন বিশ্ববাসী মধ্যপ্রাচ্যে রক্তপাত বন্ধের আশায় বুক বেঁধেছিল, ঠিক তখনই ইসরাইলের এই আগ্রাসন শান্তি আলোচনাকে ব্যর্থ করার নামান্তর।" তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা কেবল যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের জবাবে এই ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির মেয়াদের মধ্যেই এই বড় ধরনের প্রাণহানি লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথকে আরও দুর্গম করে তুলল। যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের মধ্যস্থতায় চলা শান্তি প্রচেষ্টা এখন এক গভীর সংকটে উপনীত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে লেবানন জুড়ে নতুন করে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
