মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান অস্থিরতার মধ্যে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলাকালেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ইসরায়েল যদি পুনরায় যুদ্ধ শুরু করে বা কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালায়, তবে দিমোনা পারমাণবিক কেন্দ্রসহ অন্তত ৯৭টি কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হবে।
ইরাকি রাজনৈতিক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী আল-হাকিম সম্প্রতি ইরানের সামরিক প্রস্তুতির বিশদ বিবরণ দিয়ে এই দাবি করেন। বুধবার পার্সটুডে এক প্রতিবেদনে জানায়, তেহরান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী করেছে এবং যেকোনো সংঘাতের দাঁতভাঙা জবাব দিতে ‘সর্বোচ্চ প্রস্তুতি’ গ্রহণ করে রেখেছে।
আল-হাকিম জানান, ইসরায়েল মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে যুদ্ধবিরতি এড়াতে চাইছে। তার মতে, "ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানেন যে, একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বা শান্তি চুক্তি মানেই তার রাজনৈতিক জীবনের অবসান এবং শেষ পর্যন্ত তাকে দুর্নীতির দায়ে কারাগারে যেতে হবে।" এই ব্যক্তিগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই নেতানিয়াহু যুদ্ধংদেহী মনোভাব বজায় রাখছেন বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।
ইরানের সামরিক সক্ষমতার নতুন দিক উন্মোচন করে এই বিশ্লেষক বলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়া মানেই ইসরায়েলের জন্য নজিরবিহীন ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনা। ইরান এবার এমন কিছু কৌশলগত ও যন্ত্রণাদায়ক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে, যা গত ‘চল্লিশ দিনের যুদ্ধে’ও তারা প্রদর্শন করেনি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল যদি রেড লাইন বা সীমা অতিক্রম করে, তবে ইরানের প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু হবে দেশটির দিমোনা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এছাড়া দেশটির অভ্যন্তরে আরও ৯৬টি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় রয়েছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হুঁশিয়ারি কেবল কথার লড়াই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের একটি কৌশল। ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা নির্ধারণ করবে।