× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

নির্বাচনে ‘কারচুপির’ অভিযোগ

ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যাচ্ছেন মমতা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৭ মে ২০২৬, ০৩:০৮ এএম । আপডেটঃ ০৭ মে ২০২৬, ০৩:১৩ এএম

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি: ইন্ডিয়া টুডে

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে পরাজয় মেনে না নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনে নজিরবিহীন কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল চ্যালেঞ্জ করতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। বুধবার (৬ মে) কলকাতার কালীঘাটে নবনির্বাচিত দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠক শেষে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই নির্বাচনি ফলাফলকে ‘জনমতের ছিনতাই’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ২০০-এর বেশি আসনে জয়ী ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) বিরুদ্ধে পরিকল্পিত কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। এই ম্যান্ডেটকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি তিনি নিজেও সরাসরি আইনি পেশায় ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি লড়াইয়ে সহযোগী হিসেবে থাকছেন বিদায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। মমতা জানিয়েছেন, রাজ্যে নির্বাচনি ধাক্কা খেলেও দিল্লির রাজনীতিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য থেকে তিনি এক চুলও সরবেন না।

তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব আপাতত পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় নেতাদের নিজ নিজ পদে আসীন থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "ছিনতাই হওয়া ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে পদে থেকে কাজ করে যাওয়াই হবে আমাদের বড় প্রতিবাদ।" এছাড়া ভোট-পরবর্তী কথিত সহিংসতার বিরুদ্ধেও দল আইনি ব্যবস্থা নেবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "কেন্দ্র চাইলে এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারে। তবে সেই পদক্ষেপ যেন দাফতরিক নথিতে যথাযথভাবে লিপিবদ্ধ থাকে। আমরা শেষ পর্যন্ত দেখে ছাড়ব।"

আগামী ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যখন নবনির্বাচিত বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলবে, তখন তৃণমূলের প্রতিটি কার্যালয়ে দিনভর রবীন্দ্রসংগীত বাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিনটিকে শোক ও প্রতিবাদের অংশ হিসেবে পালন করবে তার দল। একই সঙ্গে জয়ী প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের পাশে থাকার কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মমতার এই আইনি পদক্ষেপ ভারতের বিচার বিভাগীয় ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট যদি এই আবেদন গ্রহণ করে, তবে তা ভারতের নির্বাচনি ব্যবস্থার স্বচ্ছতাকে পুনরায় কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে। আপাতত ৯ মে-র শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.