মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইরানকে একটি চূড়ান্ত প্রস্তাব দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের প্রস্তাব মেনে নিয়ে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ উন্মুক্ত করে দেয়, তবে দেশটিতে চলমান সামরিক অভিযান বন্ধ করা হবে। অন্যথায়, ইরানের ওপর আগের চেয়ে আরও বিধ্বংসী ও তীব্র হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কড়া বার্তা দেন। ট্রাম্প জানান, ইরান প্রস্তাবে রাজি হওয়া মাত্রই দেশটিতে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযান ‘এপিক ফিউরি’র সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে চলমান নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য এটি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
তবে কূটনৈতিক এই প্রস্তাবের সমান্তরালে সামরিক হুমকির সুরও বজায় রেখেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি তারা (ইরান) এই চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু হবে। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এবারের হামলার মাত্রা ও ভয়াবহতা পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি হবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বার্তা একদিকে যেমন আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত, অন্যদিকে তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনের প্রধান রুট হওয়ায় এই প্রস্তাব বৈশ্বিক অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
এখন দেখার বিষয়, হোয়াইট হাউসের এই ‘আল্টিমেটাম’ বা চরমপত্রের জবাবে ইরান কোনো আপস করে কি না, নাকি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও প্রকট হয়।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা