মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রক্রিয়ার অনিশ্চয়তার মাঝে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে পুনরায় বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার জোরালো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইরান। তেহরানের দাবি, ওয়াশিংটন কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বা সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়, ফলে সাময়িক যুদ্ধবিরতি বা স্থবিরতা ভেঙে যেকোনো মুহূর্তে সংঘাতের সূত্রপাত হওয়া কেবল সময়ের ব্যাপার। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এই কড়া হুঁশিয়ারি ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে।
শনিবার ইরানের সামরিক সদর দপ্তরের ডেপুটি মোহাম্মদ জাফর আসাদি দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা 'ফারস নিউজ'-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই শঙ্কা প্রকাশ করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে জানা যায়, আসাদি মার্কিন প্রশাসনের কূটনৈতিক সদিচ্ছাকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
মোহাম্মদ জাফর আসাদি তাঁর বক্তব্যে মার্কিন নীতিকে ‘গণমাধ্যম-কেন্দ্রিক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কার্যক্রম ও বিবৃতির পেছনে দুটি প্রধান লক্ষ্য কাজ করছে। প্রথমত, বিশ্ববাজারে তেলের দামের পতন রোধ করা এবং দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সৃষ্ট গভীর সংকট থেকে সম্মানজনক প্রস্থানের পথ খোঁজা।
চুক্তি লঙ্ঘনের পুরনো অভিযোগ তুলে এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, "ঐতিহাসিক প্রমাণগুলো স্পষ্ট করে যে, মার্কিন কর্তৃপক্ষ কোনো সুনির্দিষ্ট সনদ বা প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে সক্ষম নয়।" ওয়াশিংটনের প্রতি তীব্র অনাস্থা জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, আমেরিকানদের যেকোনো ধরনের ‘দুঃসাহস’ বা ‘বোকামির’ দাঁতভাঙা জবাব দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, আসাদির এই বক্তব্য কেবল একটি সতর্কবার্তা নয়, বরং এটি পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইরানের সামরিক অনমনীয়তার বহিঃপ্রকাশ। দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়ের পর তেহরান যে পিছু হটতে নারাজ, এই বিবৃতি তারই ইঙ্গিত দেয়।
এই যুদ্ধাংদেহী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন বড় প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং ইরান কি সত্যিই কোনো সম্ভাব্য আক্রমণ প্রতিহতের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে? এমন এক নাজুক সময়ে এই ঘোষণা এলো, যখন পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে, অথচ রণধ্বনি বাজছে তেহরানের কণ্ঠে।