ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে গত দুই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় দাঁড়িয়েছে আনুমানিক ২৫ বিলিয়ন (২ হাজার ৫০০ কোটি) ডলারে। বুধবার মার্কিন কংগ্রেসের হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে পেন্টাগনের শীর্ষ বাজেট কর্মকর্তা জে হার্স্ট এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংঘাতের ব্যয়ভার নিয়ে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক ও প্রকাশ্য স্বীকারোক্তি।
প্রতিরক্ষা দফতরের কমপট্রোলার জে হার্স্ট আইনপ্রণেতাদের জানান, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র এই বিপুল ব্যয়ের সিংহভাগই খরচ হয়েছে অত্যাধুনিক গোলাবারুদ সংগ্রহ ও ব্যবহারে। ব্যয়ের বাকি অংশ ব্যয় হয়েছে সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ খাতে। পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রকৃত ও পূর্ণাঙ্গ ব্যয় নিরূপণের পর হোয়াইট হাউস থেকে কংগ্রেসে একটি ‘সম্পূরক বাজেট’ অনুরোধ পাঠানো হবে।
শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন উপস্থিত থাকলেও সংঘাতের ভবিষ্যৎ ব্যয় নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ধারণা দিতে পারেননি। ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি রো খান্না যুদ্ধের সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক চাপ নিয়ে প্রশ্ন তুললে প্রতিরক্ষামন্ত্রী তা কৌশলে এড়িয়ে যান।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ এই যুদ্ধের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে শুরু থেকেই অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে সরাসরি আক্রমণাত্মক হামলা থেকে সরে এসে উভয় পক্ষ এখন একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র ‘অর্থনৈতিক অবরোধের’ পথে হাঁটছে। ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অব্যাহত অবরোধের বিপরীতে পাল্টাব্যবস্থা হিসেবে তেহরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ করে রেখেছে।
সামরিক এই অচলাবস্থা কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং বিশ্ব অর্থনীতিতে এক বড় ধরনের মন্দার ঝুঁকি তৈরি করেছে। জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক বাজারগুলোতে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
২৫ বিলিয়ন ডলারের এই প্রাথমিক হিসাবটি কেবল একটি যুদ্ধের ব্যয় নয়, বরং এটি দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক সংকটের আর্থিক প্রতিচ্ছবি। ট্রাম্প প্রশাসনের এই ব্যয়বহুল সামরিক ও অর্থনৈতিক কৌশল ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যেকার দূরত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। যদি উভয় পক্ষ আলোচনার টেবিলে ফিরে না আসে, তবে এই ক্রমবর্ধমান ব্যয় কেবল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বাজেটকেই নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকেও খাদের কিনারায় নিয়ে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল-মনিটর