× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আমিরাত রক্ষায় প্রথমবার ইসরায়েলি ‘আয়রন ডোম’ ও সেনা মোতায়েন

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২:২৬ পিএম । আপডেটঃ ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ২২:২৭ পিএম

সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ইসরায়েলি ও আমিরাাতি কর্মকর্তারা। ফাইল ছবি: ইপিএ

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধের এক বিস্ফোরক ও নজিরবিহীন তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। সংঘাতের চরম পর্যায়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে নিজেদের সর্বাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এবং তা পরিচালনার জন্য একদল সেনা সদস্য পাঠিয়েছিল ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে উঠে আসা এই তথ্যটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন এবং কৌশলগত মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান-সংঘাতের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতকেই (ইউএই) বেশি লক্ষ্যবস্তু করেছিল তেহরান। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ইরান এই সময়ে প্রায় ৫৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ২০০টিরও বেশি ড্রোন আমিরাতের দিকে ছুড়েছে। অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হলেও কিছু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানলে তীব্র ঝুঁকির মুখে পড়ে দেশটি।

এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোন আলাপের পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জরুরিভিত্তিতে আয়রন ডোম ব্যাটারি এবং কয়েক ডজন সেনা সদস্য আমিরাতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ইসরায়েলের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম অন্য কোনো রাষ্ট্রে আয়রন ডোম ব্যাটারি মোতায়েন করা হয়েছে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরেও এই প্রযুক্তির এমন সরাসরি ব্যবহার এটিই প্রথম। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, আমিরাতে স্থাপিত এই ব্যবস্থাটি ইরানের ছোড়া কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে ধ্বংস করেছে। এছাড়া ইসরায়েলি বিমানবাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে স্বল্পপাল্লার বেশ কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছে, যা আমিরাতকে লক্ষ্য করে ছোড়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।

উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আমিরাতি কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের উপর্যুপরি হামলা সাধারণ মানুষের চিন্তাধারায় পরিবর্তন এনেছে। তাদের মতে, অস্তিত্ব রক্ষার সংকটে যারা ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে, তাদের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি এখন অনেক বেশি ইতিবাচক।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝুঁকি ছিল। কারণ নিজ দেশ যখন হামলার শিকার, তখন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিদেশে পাঠানোকে অনেকেই সমালোচনার চোখে দেখতে পারেন। তবে ২০২০ সালের ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বা শান্তিচুক্তির পর দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব এখন চূড়ান্ত শিখরে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমিরাতের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সাবেক কর্মকর্তা তারেক আল-ওতাইবা এক নিবন্ধে উল্লেখ করেছেন যে, সংকটের সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রই প্রকৃত মিত্র হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। তিনি সামরিক সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের জন্য দেশ দুটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ আমিরাতি কর্মকর্তা বলেন, “এটি আমাদের জন্য একটি চোখ খুলে দেওয়ার মতো মুহূর্ত ছিল। আমাদের প্রকৃত বন্ধু কারা, তা দেখার সুযোগ হয়েছে। আমরা এই সহায়তা ভুলব না।”

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের এই নেপথ্য নাটকীয়তা প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যের সনাতনী শত্রুতা ও মিত্রতার সংজ্ঞা আমূল বদলে গেছে। আবুধাবির আকাশে ইসরায়েলি আয়রন ডোমের গর্জন কেবল ক্ষেপণাস্ত্রই প্রতিহত করেনি, বরং তা তেহরানবিরোধী এক শক্তিশালী আঞ্চলিক জোটের ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেছে। আগামী দিনগুলোতে এই সামরিক সখ্য মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.