ইসলামাবাদে বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। শনিবার ইসলামাবাদে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
শনিবারের এই বৈঠকে কেবল বেসামরিক নেতৃত্বই নয়, বরং পাকিস্তানের প্রভাবশালী সামরিক ও কূটনৈতিক নীতিনির্ধারকদের উপস্থিতিও ছিল লক্ষণীয়। শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে আয়োজিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আসিম মুনির। বিশ্লেষকদের মতে, সেনাপ্রধানের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এই আলোচনা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এর নেপথ্যে গভীর নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ছিল।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা এক সংক্ষিপ্ত কিন্তু গাম্ভীর্যপূর্ণ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ‘বর্তমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি’। যদিও সুনির্দিষ্ট কোনো চুক্তির বিষয়ে তাৎক্ষণিক ঘোষণা আসেনি, তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আভাস দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনা এবং আফগানিস্তান সীমান্ত কেন্দ্রিক নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে দুই পক্ষ বিস্তারিত মতবিনিময় করেছে।
মার্কিন সংবাদসংস্থা এপি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা পরিস্থিতি এবং এর ফলে উদ্ভূত লোহিত সাগরের অস্থিরতা নিরসনে মুসলিম বিশ্বের দুই শক্তিশালী রাষ্ট্রের এই সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ও ইরান উভয় দেশই চায় না এই অঞ্চলে বৃহত্তর কোনো যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ুক।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান ও ইরানের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন থাকলেও, আরাঘচির এই সফর সেই বরফ গলানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে তেহরান যখন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে মিত্র খুঁজছে, তখন ইসলামাবাদের সাথে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি তাদের জন্য কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। অন্যদিকে, পাকিস্তানের জন্য ইরান কেবল একটি প্রতিবেশী রাষ্ট্র নয়, বরং জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও মধ্য এশিয়ায় প্রবেশের অন্যতম প্রবেশদ্বার।
ইসলামাবাদের এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন বিশ্বরাজনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। শাহবাজ শরিফ ও আব্বাস আরাঘচির এই সংলাপ কেবল দুটি দেশের দ্বিপাক্ষিক বিষয় নয়, বরং তা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলোচনার বিস্তারিত ধারা সামনে না এলেও, নীতিনির্ধারকদের এই উপস্থিতি বার্তা দিচ্ছে যে—সংকট উত্তরণে ইসলামাবাদ ও তেহরান একে অপরের অপরিহার্য অংশীদার হিসেবেই থাকতে চায়।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
