× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা, নেপথ্যে কে এই হিশাম?

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২০ পিএম । আপডেটঃ ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৫১ পিএম

সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহছবি: হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের (পুলিশ) কার্যালয়

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় উচ্চশিক্ষারত দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ পুরো টাম্পা এলাকা। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে ২৬ বছর বয়সী মার্কিন তরুণ হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে আসছে হিশামের সহিংস অতীত এবং নিহত জামিল আহমেদ লিমনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের তথ্য।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত হিশাম আবুঘরবেহ নিহত জামিল আহমেদ লিমনের রুমমেট ছিলেন। লিমন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে, হিশাম নিজেও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তিনি সেখান থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এই মার্কিন তরুণের বিরুদ্ধে এখন ‘ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার’ বা পরিকল্পিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের ভিত্তিতে ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

লিমনের সঙ্গে একই দিন নিখোঁজ হয়েছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। মার্কিন প্রশাসন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বৃষ্টির বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও তার ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৃষ্টির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। নিখোঁজ এই মেধাবী শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় পুলিশ।

হিশাম আবুঘরবেহর জীবন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এটিই তার প্রথম অপরাধ নয়। গ্রেপ্তারের পর শেরিফের কার্যালয়ের চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানিয়েছেন, হিশামের সহিংস আচরণের কারণে এর আগে একাধিকবার তাদের বাড়িতে পুলিশ ডাকতে হয়েছিল।

তদন্তে প্রাপ্ত আদালতের নথি থেকে জানা যায়:

  • আগের গ্রেপ্তার: ২০২৩ সালে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগে হিশামকে দুবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যদিও পরে অভিযোগগুলো প্রত্যাহার করা হয়।


  • ভাইয়ের করা মামলা: নিজের মা ও ভাইয়ের ওপর আক্রমণের অভিযোগে আদালত হিশামের বিরুদ্ধে পারিবারিক নিষেধাজ্ঞা (ইনজাংশন) জারি করেছিলেন।


  • অসহযোগিতা: লিমনের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুলিশ তাকে দুবার জিজ্ঞাসাবাদ করে। শুরুতে কথা বললেও গত বৃহস্পতিবার থেকে তিনি তদন্তে সহযোগিতা করা বন্ধ করে দেন।

হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ ও উদ্বেগজনক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, প্রতিটি সূত্র খতিয়ে দেখে দায়ী ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। হিশামের বিরুদ্ধে মারধর, জোরপূর্বক আটকে রাখা, প্রমাণ নষ্ট করা এবং মরদেহ অবৈধভাবে সরানোর মতো গুরুতর অভিযোগও গঠন করা হয়েছে।

ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে সুদূর বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা দুই মেধাবী প্রাণ নিভে যাওয়ায় টাম্পার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। লিমনের মরদেহ উদ্ধারের পর বৃষ্টির সন্ধান না পাওয়া পর্যন্ত উদ্বেগ কাটছে না স্বজনদের। একজন রুমমেট ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনের হাতে এ ধরনের নৃশংসতা বিদেশের মাটিতে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এখন দেখার বিষয়, মার্কিন বিচার বিভাগ এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো বৃহত্তর মোটিভ খুঁজে পায় কি না।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.