ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে যেকোনো ধরনের বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইসমাইল সাকাব ইসফাহানি। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষ যদি ইরানের তেল বা বিদ্যুৎ খাতে আঘাত হানার ‘ভুল’ করে, তবে তেহরান কেবল আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং হামলাকারীর নিজস্ব তেল স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বাগাড়ম্বরকে উপেক্ষা করে তিনি জাতীয় সংহতি ও সামরিক সক্ষমতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তেহরানে এক বিশাল জনসমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে ভাইস প্রেসিডেন্ট বর্তমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সাম্প্রতিক তৎপরতার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইরান এ যাবৎকাল পর্যন্ত ‘চোখের বদলে চোখ’ বা সমান্তরাল প্রতিশোধের নীতি অনুসরণ করে আসলেও ভবিষ্যতে তা আরও বিধ্বংসী হতে পারে।
সাকাব ইসফাহানি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, "আমাদের কৌশল এখন সুনির্দিষ্ট। যদি আমাদের কোনো তেলকূপে আঘাত হানা হয়, তবে যে দেশের মাটি ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হবে, সেই দেশের তেল ক্ষেত্রগুলো আমাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। আমাদের প্রতিক্রিয়া হবে আগ্রাসনের চেয়েও বহুগুণ কঠোর।"
আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, তিনি জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিষেবার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে দেশবাসীকে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান নীতি ও কড়া বক্তব্যের বিষয়ে সাকাব ইসফাহানি বলেন, ইরান কোনো ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে ভীত নয়। তিনি দাবি করেন, ইরানের কূটনীতিবিদরা জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ সাহসিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। তার ভাষায়, "আমাদের আলোচক দল আলোচনার টেবিলে শত্রুর কলার চেপে ধরেছে।"
প্রতিবেদনের শেষাংশে ভাইস প্রেসিডেন্ট অভ্যন্তরীণ বিভাজন সৃষ্টির অপচেষ্টা সম্পর্কে সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। তিনি মনে করেন, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ‘সামাজিক সম্প্রীতি ও সংহতি’। সামরিক শক্তির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ঐক্যই শত্রুর যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করার মূল চাবিকাঠি বলে তিনি উল্লেখ করেন।