× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন

ভোটের জরিপে তৃণমূল-বিজেপি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২১ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৪ পিএম । আপডেটঃ ২১ এপ্রিল ২০২৬, ২২:১০ পিএম

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রে মুখোমুখি দুই প্রধান পক্ষ। একদিকে ঘাসফুল শিবিরের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অন্যদিকে গেরুয়া শিবিরের কাণ্ডারি নরেন্দ্র মোদি। বাংলার মসনদ কার দখলে যাবে, ৪ মে ফলাফল ঘোষণার পরেই মিলবে তার চূড়ান্ত উত্তর। গ্রাফিকস: সংগৃহীত

তপ্ত রোদ আর কালবৈশাখীর আশঙ্কার মাঝেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আকাশে এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মেঘ। গ্রামবাংলার মাঠঘাটে মাঘের কুয়াশার মতো বিছিয়ে আছে এক অমোঘ প্রশ্ন—তৃণমূলের হ্যাটট্রিক নাকি বিজেপির জয়োল্লাস? প্রথম দফার ভোটগ্রহণের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপ বা ‘একজিট পোল’ রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল ও রহস্যময় করে তুলেছে। একদিকে মমতা-অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনামল ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটির বঙ্গজয়ের মরিয়া চেষ্টা—সব মিলিয়ে বাংলা এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে।

এবারের নির্বাচনে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে বড় প্রতিপক্ষ কেবল বিজেপি নয়, বরং নির্বাচন কমিশনও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশে রাজ্যে মোতায়েন করা হয়েছে প্রায় পৌনে তিন লাখ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। জেলায় জেলায় সাঁজোয়া গাড়ির রুট মার্চ আর পুলিশ-প্রশাসনে ঢালাও বদলি এক ভীতিকর অথচ কঠোর নিরাপত্তার আবহ তৈরি করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের ‘অভয়’ দিতে কমিশনের এই অতি-সক্রিয়তা শেষ পর্যন্ত কার বাক্সে ভোট টানবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় হেঁয়ালি।

ভোটের ঠিক আগে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সমীক্ষা সংস্থার ফল যেন এক বিভ্রান্তিকর কোলাজ। কোনো জরিপে তৃণমূল এগিয়ে, কোনোটিতে বিজেপি, আবার কোনোটিতে লড়াই ‘কাঁটে কি টক্কর’।

তৃণমূলের পক্ষে হাওয়া

‘সি ভোটার’ ও ‘এবিপি’-এর জরিপে তৃণমূল কংগ্রেস ১৫৮টি আসন পেয়ে সরকার গড়ছে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। ‘ইটিজি রিসার্চ’ আরও এক ধাপ এগিয়ে মমতার দলকে ১৬৯টি আসন দিয়েছে।


বিজেপির উত্থান

‘ইন্ডিয়া টুডে-অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’র মতে, বিজেপি ১৪৭টি আসন পেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকতে পারে। তবে সবচেয়ে ‘দুঃসাহসী’ পূর্বাভাস দিয়েছে ‘ইন্ডিয়া টিভি’; তাদের হিসেবে বিজেপি একাই পেতে পারে ১৯২টি আসন।


ত্রিশঙ্কু বিধানসভার আশঙ্কা

সব জরিপের গড় বা ‘পোল অব পোলস’ বলছে এক শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির কথা। তৃণমূল ১৪১ এবং বিজেপি ১৩৮—এমন ফল হলে রাজ্য এক ‘ঝুলন্ত বিধানসভা’র মুখে পড়বে, যেখানে কিং-মেকার হয়ে উঠতে পারে বাম-কংগ্রেস জোট।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ প্রতিটি জনসভায় নিয়ম করে হুমকি দিচ্ছেন, সরকার গড়লে ‘গুন্ডাদের’ উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করা হবে। অন্যদিকে, তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বহিরাগত শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছেন। এই বাগযুদ্ধ আর ধরপাকড়ের রাজনীতি সাধারণ মানুষের মনে গভীর দাগ কাটছে। তবে কলকাতার প্রবীণ বাসিন্দারাও বুক ঠুকে বলতে পারছেন না—কে হাসবেন শেষ হাসি।

আগামী বুধবার প্রথম দফার ১৬ জেলার ১৫২ আসনে ভোটগ্রহণ। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা পেরিয়ে ৪ মে যখন ফলাফল প্রকাশিত হবে, তখন অবসান ঘটবে সব জল্পনার। তবে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এখন রূঢ় বাস্তবতা হলো, ভোটের ময়দানে যারাই জিতুক না কেন, সরকার গঠনের সমীকরণে শেষ পর্যন্ত ‘অমিত শাহ ফ্যাক্টর’ কাজ করবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন তুঙ্গে। যদি কোনো দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবে বাংলার রাজনীতি এক নতুন ও জটিল মোড় নেবে। শেষ পর্যন্ত ‘দিদি’র ঘর রক্ষা হবে নাকি মোদি-শাহের ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্ন সফল হবে—তার উত্তর এখন কেবল ইভিএমের বন্দি।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.