× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত, হোয়াইট হাউসে কয়েক ঘণ্টা ধরে চিৎকার ও অস্বাভাবিক আচরণ ট্রাম্পের

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২৬ পিএম । আপডেটঃ ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২৭ পিএম

ইরানের হাতে মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংসের খবর শুনে হোয়াইট হাউসে কয়েক ঘণ্টা ধরে সহকারীদের ওপর চিৎকার করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

পারস্য উপসাগরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান ছায়াযুদ্ধ এখন এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। সম্প্রতি ইরানে হামলা চালাতে গিয়ে মার্কিন বিমানবাহিনী দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে এবং বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এই বিপর্যয়ের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চরম অস্থিরতা ও ‘অস্বাভাবিক’ আচরণ ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারক মহলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর পৌঁছানোর পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের ‘ওয়েস্ট উইং’-এ চরম উত্তেজিত হয়ে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলা হয়, তিনি কয়েক ঘণ্টা ধরে তাঁর নিকটস্থ সহকারীদের ওপর চিৎকার করেন এবং নজিরবিহীন মানসিক অস্থিরতা প্রদর্শন করেন।

পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও সংবেদনশীল উদ্ধার অভিযান চলাকালে সামরিক উপদেষ্টারা খোদ প্রেসিডেন্টকেই ‘সিচুয়েশন রুম’ থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। উপদেষ্টাদের আশঙ্কা ছিল, কমান্ডারের এমন অস্থিতিশীল আচরণ অত্যন্ত জটিল এই উদ্ধার অভিযানে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

ইরানি সীমানায় ভূপাতিত হওয়ার পর মার্কিন পাইলটদের উদ্ধারে প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালায় বিশেষ বাহিনী। মরুভূমির প্রতিকূল আবহাওয়া এবং উড়োজাহাজ বালিতে আটকে যাওয়ার মতো কারিগরি জটিলতা অভিযানকে খাদের কিনারে নিয়ে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত পাইলটদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হলেও এই ঘটনা মার্কিন সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের ওপর একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্রমতে, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় ট্রাম্প ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ‘ইরান জিম্মি সংকট’-এর উদাহরণ টেনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পুরোনো সেই সংকটের ছায়া বর্তমান সংঘাতে পড়বে কি না, তা নিয়ে তাঁর মধ্যে প্রবল আতঙ্ক কাজ করছে। যদিও প্রকাশ্যে তিনি ইরানকে ‘ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়ার’ কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, তবে পর্দার আড়ালে পূর্ণমাত্রার স্থল অভিযান বা ‘টোটাল ওয়ার’ নিয়ে তিনি এখনো দোদুল্যমান।

সামরিক শক্তির প্রদর্শনী সত্ত্বেও ওয়াশিংটন এখন যুদ্ধের ভয়াবহতা এড়াতে বিকল্প কূটনৈতিক পথের সন্ধান করছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর, বর্তমান উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র এখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ব তেলের বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে আনাও এখন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ইরানের আকাশে মার্কিন যুদ্ধবিমানের পতন কেবল একটি সামরিক ক্ষয়ক্ষতি নয়, বরং এটি ওয়াশিংটনের কৌশলগত সীমাবদ্ধতাকেও নগ্ন করে দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আচরণগত অস্থিরতা এবং যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে অস্পষ্টতা মিত্র দেশগুলোর মধ্যেও সংশয় তৈরি করছে। বিশ্ব এখন রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছে—হোয়াইট হাউসের এই অস্থিরতা কি নতুন কোনো বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করবে, নাকি কূটনীতির টেবিলে শেষ পর্যন্ত রফাদফা হবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.