× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

নিউইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদন

জ্বালানি তেল সংকটে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে রাশিয়া-ইরানের পথে এশীয় মিত্ররা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

২০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৪ এএম । আপডেটঃ ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৫ এএম

ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি স্থাপনার দৃশ্য। ছবি: এএফপি

পারস্য উপসাগরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অভিঘাত এবার আছড়ে পড়ছে এশীয় ভূ-রাজনীতির উপকূলে। কয়েক দশক ধরে এশিয়ায় ওয়াশিংটনের যে অটুট বলয় ছিল, তা এখন নজিরবিহীন ফাটলের মুখে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় সৃষ্ট চরম জ্বালানি সংকট দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও জাপানের মতো কট্টর মার্কিন মিত্রদের বাধ্য করছে ওয়াশিংটনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়া ও ইরানের দিকে হাত বাড়াতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল তেলের বাজার নয়, বরং এশিয়ায় মার্কিন প্রভাবের এক ঐতিহাসিক পতনকাল।

দীর্ঘদিন ধরে এশীয় দেশগুলো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রতি সংহতি জানিয়ে মস্কো ও তেহরানের কাছ থেকে জ্বালানি কেনা বন্ধ রেখেছিল। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে সেই আনুগত্যের দেয়াল ধসে পড়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে এশিয়ায় আসা তেলের ৮০ শতাংশ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প উৎসের সন্ধানে মরিয়া হয়ে উঠেছেন এ অঞ্চলের নেতারা।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর হুয়ং লে থু এই পরিস্থিতিকে বর্ণনা করেছেন এক 'রূঢ় বাস্তবতা' হিসেবে। তিনি বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অস্পষ্ট পররাষ্ট্রনীতি এশীয় মিত্রদের একটি অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তারা যুক্তরাষ্ট্রের বলয় থেকে বেরিয়ে বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হচ্ছে।”

সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা ওয়াশিংটনের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা:

দক্ষিণ কোরিয়া

সিউল দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থান ভেঙে রাশিয়া থেকে ২৭ হাজার ৯০০ টন ন্যাপথা আমদানির অনুমতি দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট লি জে মিউংয়ের উপদেষ্টা পর্ষদ ১৯৭৩ সালের তেল সংকটের উদাহরণ টেনে জানিয়েছেন, জোটের সম্পর্কের চেয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন বেশি অগ্রাধিকার পাবে।


ইন্দোনেশিয়া

গত সোমবার ইন্দোনেশিয়ার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো মস্কোয় ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁকে ‘ইতিবাচক’ নেতা হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং জ্বালানি আমদানির চুক্তি নিশ্চিত করেছেন।


ফিলিপাইন ও ভারত

ফিলিপাইন সরকার রাশিয়ার ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি তুলেছে, যাতে তারা আরও রুশ তেল কিনতে পারে। এদিকে, সাত বছর বিরতির পর ভারতের বন্দরে ভিড়েছে ইরানের অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার।

জাপান বর্তমানে এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে। প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্র আর পুরোনো সরবরাহকারী ইরান—উভয়কেই রক্ষা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে টোকিও। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তেহরানের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন। অন্যদিকে, ভারত ওয়াশিংটনের কৌশলগত অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও পুনরায় রুশ তেলের ওপর নির্ভরশীল হতে শুরু করেছে, যা আদতে আমেরিকার প্রতিপক্ষের অর্থনীতিকেই শক্তিশালী করছে।

জ্বালানি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘ভোরটেক্সা’র মতে, রুশ তেল এখন বৈশ্বিক বাজারমূল্যের চেয়ে ১০ শতাংশ বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে। তা সত্ত্বেও এশীয় দেশগুলোর সামনে কোনো বিকল্প নেই। যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের কৌশলগত মজুত থেকে তেল আসা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি সময়সাপেক্ষ। বিপরীতে রুশ বন্দর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ায় তেল পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র কয়েক দিন।

এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের যে ভিত্তিটি ‘নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা’র ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, তা এখন জ্বালানি সংকটের তাপে গলতে শুরু করেছে। মিত্র দেশগুলো ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করলেও, তাদের এই 'বাস্তবসম্মত' নীতি পরিবর্তন প্রমাণ করে যে—বিপদের দিনে মার্কিন ছাতার চেয়ে রাশিয়ার তেল বা ইরানের গ্যাসের গুরুত্ব এখন অনেক বেশি। ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির বিপরীতে মিত্রদের 'ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ফার্স্ট' নীতি এশিয়ায় এক নতুন ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্র আঁকছে, যেখানে ওয়াশিংটন ক্রমশ একা হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.