ইউরোপের উন্নত জীবনের হাতছানি আবারও রূপ নিল সলিল সমাধিতে। লিবিয়ার উপকূলীয় শহর জুওয়ারার নিকটবর্তী সমুদ্রতীর থেকে গত কয়েক দিনে অন্তত ১৭ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লিবীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ শনাক্ত করা গেছে, যা যুদ্ধ ও দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার বিপজ্জনক বাস্তবতাকে আবারও সামনে এনেছে।
লিবিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘ইমার্জেন্সি মেডিসিন অ্যান্ড সাপোর্ট সেন্টার’ শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১১৭ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত জুওয়ারা উপকূলে এই ট্র্যাজেডি ঘটে। চিকিৎসাকর্মীদের উদ্ধার তৎপরতার ছবিতে দেখা গেছে, একের পর এক সাদা প্লাস্টিকের ব্যাগে করে নিথর দেহগুলো অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হচ্ছে।
উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, নিহত ১৭ জনের মধ্যে ১৪ জনকে যথাযথ ধর্মীয় ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে দাফন করা হয়েছে। তবে মৃতদের মধ্যে একজন বাংলাদেশি নাগরিককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ত্রিপোলিতে অবস্থানরত তাঁর পরিবারের কাছে ইতিমধ্যে মরদেহটি হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি দুজনের পরিচয় এখনো মেলেনি, যাদের পরিবার হয়তো এখনো পথ চেয়ে বসে আছে কোনো এক অজানায়।
২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া হয়ে উঠেছে মানবপাচারকারী ও ইউরোপে যেতে ইচ্ছুক অভিবাসীদের প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট। আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষগুলো উন্নত জীবনের আশায় বিপজ্জনক সাহারা মরুভূমি এবং উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নেন। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর মতে, ভূমধ্যসাগরের এই রুটটি বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী পথ, যেখানে প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ সলিল সমাধিস্থ হন।
জুওয়ারা উপকূলের এই ১৭টি প্রাণহীন দেহ কেবল সংখ্যা নয়, বরং ১৭টি পরিবারের স্বপ্ন ও দীর্ঘশ্বাসের গল্প। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত উদ্বেগ আর কড়াকড়ি সত্ত্বেও থামছে না এই মরণযাত্রা। লিবিয়ার অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ এবং দারিদ্র্যের কষাঘাত থেকে মুক্তি পাওয়ার এই মরিয়া চেষ্টা বারবার আছড়ে পড়ছে সমুদ্রের তীরে। কত প্রাণ গেলে থামবে এই অবৈধ অভিবাসনের ট্র্যাজেডি, সেই প্রশ্ন এখন বিশ্ব বিবেকের কাছে।