যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৩ সাল থেকে অত্যাধুনিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ১০ থেকে ১২ জন বিজ্ঞানীর রহস্যজনক মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ছবি: ফক্স নিউজ-এর ভিডিও ফুটেজ থেকে নেওয়া
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও বিজ্ঞানের নিভৃত লোকালয়ে যেন এক অদৃশ্য সংহারকের ছায়া পড়েছে। একের পর এক শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী ও গবেষকের রহস্যজনক মৃত্যু এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম উদ্বেগ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত গুরুতর’ আখ্যা দিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমি এইমাত্র এ-সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষ করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আগামী দেড় সপ্তাহের মধ্যে আমরা সত্যটি জানতে পারব বলে আশা করছি। যারা হারিয়ে গেছেন, তারা জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ছিলেন।”
২০২৩ সাল থেকে শুরু হওয়া এই মৃত্যু ও নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন অন্তত ১২ জন বিজ্ঞানী, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গোপনীয় পারমাণবিক অস্ত্র ও মহাকাশ গবেষণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। এই বিজ্ঞানীদের কাছে ছিল এমন সব তথ্যভান্ডার, যা বৈশ্বিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে সক্ষম।
তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় ও অন্তর্ধানের ধরন জনমনে শিহরণ জাগাচ্ছে:
তালিকায় আরও রয়েছেন নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরির পরিচালক মনিকা জাসিন্টো রেজা, এমআইটির নুনো লোরেইরো এবং লস আলামোস ল্যাবরেটরির একাধিক বিশেষজ্ঞ।
অনলাইনে এই রহস্যময় ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বইছে জল্পনার ঝড়। কেউ একে ভিনদেশি গুপ্তচরদের সুপরিকল্পিত অভিযান বলছেন, আবার কেউ কেউ একে ইউএফও সংক্রান্ত অতি-গোপনীয় গবেষণার তথ্য আড়াল করার রাষ্ট্রীয় প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তবে এফবিআই-এর সাবেক সহকারী পরিচালক ক্রিস সুয়েকার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “প্রত্যেকটি ঘটনাই সন্দেহজনক। তারা এমন সব প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছিলেন যা রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড।”
কর্তৃপক্ষ এখনো এই বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলোর মধ্যে কোনো সুনির্দিষ্ট যোগসূত্র খুঁজে পায়নি। তবে বিজ্ঞানীদের এমন আকস্মিক প্রস্থান মার্কিন মহাকাশ ও প্রতিরক্ষা গবেষণায় এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি করেছে।
যে বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরির চার দেয়ালের ভেতরে আগামীর পৃথিবী গড়ছিলেন, তাদের এমন অকাল ও অমীমাংসিত প্রস্থান কেবল আমেরিকার জন্য নয়, বরং বিশ্ব বিজ্ঞানের জন্যই এক অশনিসংকেত। ট্রাম্পের নির্দেশে শুরু হওয়া এই তদন্ত কি পারবে সেই অদৃশ্য পর্দা সরিয়ে সত্যকে সামনে আনতে, নাকি ইতিহাসের পাতায় এগুলো অমীমাংসিত ট্র্যাজেডি হয়েই থেকে যাবে—এখন সেটাই দেখার বিষয়।
তথ্যসূত্র: আরটি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
