× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের গোপন তথ্য ফাঁস

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩৪ পিএম । আপডেটঃ ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩৪ পিএম

সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ)।

আধুনিক বিশ্ব রাজনীতিতে যুদ্ধের দামামা কেবল রণক্ষেত্রে নয়, বরং তার অনেক আগেই বেজে ওঠে জনমতের ড্রয়িংরুমে। সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলে তথ্য বিকৃতি, জনসংযোগ সংস্থার চতুর ব্যবহার এবং কৃত্রিম ‘আবেগপ্রবণ আখ্যান’ তৈরির মাধ্যমে কীভাবে যুদ্ধের প্রেক্ষাপট সাজানো হয়, তার এক চাঞ্চল্যকর বিশ্লেষণ সামনে এসেছে। পিনাকী ভট্টাচার্যের সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে দেখানো হয়েছে, কীভাবে পশ্চিমা শক্তিগুলো দশকের পর দশক ধরে প্রোপাগান্ডার আড়ালে বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা উসকে দিয়েছে।

১৯৯০-৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের আগে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী 'নায়রা'-র জবানবন্দি পুরো বিশ্বের বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেসের সামনে অশ্রুসিক্ত নয়নে সে দাবি করেছিল, কুয়েতের হাসপাতালে ইরাকি সৈন্যরা ইনকিউবেটর থেকে শিশুদের বের করে মেঝেতে ফেলে হত্যা করছে। মুহূর্তের মধ্যে এই গল্প বিশ্বজুড়ে ইরাক-বিদ্বেষ ছড়িয়ে দেয়। কিন্তু যুদ্ধ শেষে উন্মোচিত হয় এক রূঢ় সত্য—নায়রা আসলে কোনো সাধারণ কিশোরী নয়, সে ছিল কুয়েতি রাষ্ট্রদূতের মেয়ে। সেই জবানবন্দিটি ছিল একটি নামি জনসংযোগ সংস্থার মাধ্যমে নিখুঁতভাবে সাজানো এক প্রোপাগান্ডা নাটক, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি ছিল না।

ইরাক আক্রমণের ঠিক আগে ২০০৩ সালে তৎকালীন মার্কিন নীতিনির্ধারকরা বারবার দাবি করেছিলেন যে, সাদ্দাম হোসেনের কাছে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ রয়েছে। এই তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রে আগ্রাসন চালানো হয়। পরবর্তীতে সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হলে খোদ মার্কিন কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন যে, জনমতকে যুদ্ধের পক্ষে টানতে ইচ্ছাকৃতভাবে সেই ভুল তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল। পিনাকী ভট্টাচার্য তাঁর প্রতিবেদনে একে ইতিহাসের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ‘কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

প্রতিবেদনে সিআইএ-র সূক্ষ্ম প্রোপাগান্ডা কৌশলগুলোর ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে সিআইএ ত্রিমাত্রিক কম্পিউটার মডেল থেকে শুরু করে প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন ও সংবাদ সংস্থাকে ব্যবহার করে একপাক্ষিক ন্যারেটিভ বা বয়ান তৈরি করে। এর মাধ্যমে বিশ্বের সাধারণ মানুষের মনে নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা নেতার বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা তৈরি করা হয়, যা পরবর্তীতে যুদ্ধের যৌক্তিকতা দেয়।

বর্তমানে এই তথ্যযুদ্ধ বা ‘ইনফরমেশন ওয়ারফেয়ার’ আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রসারে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এখন মুহূর্তেই কৃত্রিম সংকট বা গুজব ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, অনেক যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অস্থিরতা কেবল আধুনিক মারণাস্ত্র দিয়ে নয়, বরং নিখুঁতভাবে ‘প্যাকেজ’ করা কৃত্রিম গল্পের মাধ্যমে মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে জয় করা হয়।

তথ্যের এই গোলকধাঁধায় সত্য আজ বন্দি। পিনাকী ভট্টাচার্যের এই বিশ্লেষণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আন্তর্জাতিক সংবাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকে গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ। বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে সাধারণ মানুষের উচিত যেকোনো উচ্চ আবেগপ্রবণ তথ্যের উৎস ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সচেতন হওয়া। অন্যথায়, ইনকিউবেটরের সেই মিথ্যা গল্পের মতো বারবার সাধারণ মানুষের সংবেদনশীলতাকে ব্যবহার করে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের প্রেক্ষাপট রচিত হতে থাকবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.