× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

অস্ট্রেলিয়ার ১২৫ বছরের ইতিহাসে প্রথম নারী সেনাপ্রধান সুসান কোয়েল

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৭ পিএম । আপডেটঃ ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৩৭ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার হবু সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়েল। ১৩ এপ্রিল, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সূচিত হলো এক নতুন দিগন্ত। দেশটির ১২৫ বছরের সামরিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সেনাবাহিনীর শীর্ষ নেতৃত্বে কোনো নারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীর বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়েলকে এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব দেওয়া হলো। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ এই ঘোষণা দেন।

অস্ট্রেলিয়া সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়েল আগামী জুলাই মাসে বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। বর্তমানে তিনি ‘জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ’ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই নিয়োগকে ‘অত্যন্ত ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস। তিনি বলেন, “সুসান কোয়েলের এই অর্জন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অগণিত নারীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।”

সুসান কোয়েল এমন এক সময়ে এই বিশাল বাহিনীর হাল ধরছেন, যখন অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনী নানামুখী অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে বাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর সরকারি লক্ষ্যমাত্রা, অন্যদিকে বাহিনীর ভেতরেই পদ্ধতিগত যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের একাধিক অভিযোগ—এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে তাঁর অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। গত বছরের অক্টোবর মাসে প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে এক মামলায় হাজারো নারী কর্মকর্তাকে হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে না পারার অভিযোগ আনা হয়। এই প্রেক্ষাপটে কোয়েলের নিয়োগকে বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীদের অংশগ্রহণ প্রায় ২১ শতাংশ এবং শীর্ষ নেতৃত্বে এই হার ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। দেশটির সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে এই অংশগ্রহণ ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সুসান কোয়েলের এই অগ্রযাত্রা সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী এবং সামগ্রিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ পদেও পরিবর্তন এসেছে। নৌবাহিনীর প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ডকে পদোন্নতি দিয়ে প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান (চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্স) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টনের স্থলাভিষিক্ত হবেন। অন্যদিকে, নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে হ্যামন্ডের জায়গায় আসছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কোয়েলের এই নিয়োগ কেবল একটি পদোন্নতি নয়, বরং রক্ষণশীল সামরিক কাঠামোর রূপান্তরের প্রতীক। যখন বিশ্বজুড়ে জেন্ডার সমতার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে, তখন অস্ট্রেলিয়ার মতো একটি প্রভাবশালী দেশের সামরিক প্রধান হিসেবে একজন নারীর আবির্ভাব আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য কাটিয়ে উঠে তিনি অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীকে কতটা আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তুলতে পারেন।


তথ্যসূত্র: রয়টার্স


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.