× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ব্যর্থ, শূন্য হাতে পাকিস্তান ছাড়লেন ভ্যান্স

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৭ এএম । আপডেটঃ ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৮ এএম

পাকিস্তানে শান্তি আলোচনা বিফল হওয়ার পর ‘এয়ার ফোর্স টু’ বিমানে আরোহণের প্রাক্কালে হাত নেড়ে বিদায় জানাচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। ছবি: রয়টার্স

কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তিতে পৌঁছাতে না পেরে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ত্যাগ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। টানা ২১ ঘণ্টার নিবিড় ও স্নায়ুচাপপূর্ণ বৈঠকের পর আজ সকালে কোনো সমঝোতা ছাড়াই পাকিস্তান ত্যাগ করেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটিই ছিল তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক। তবে ‘পারমাণবিক কর্মসূচি’ নিয়ে দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থমকে গেছে।

ইসলামাবাদে আলোচনা শেষে বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারকে পাশে নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় জানান, চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারার দায়ভার ইরানের। তিনি বলেন, “ইরানিদের সঙ্গে আমাদের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে—এটাই ইতিবাচক দিক। তবে আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি, যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি খারাপ খবর। আমরা আমাদের ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমানাগুলো অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলাম।”

ভ্যান্সের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে যে, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণের পথ চিরতরে বন্ধ করা। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইরানকে পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সকল প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তেহরান তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়।

অন্যদিকে, ইরানের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’ এই ব্যর্থতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’কে দায়ী করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন এমন কিছু শর্ত আরোপ করতে চেয়েছে যা ইরানের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থী। তবে আলোচনার দ্বার একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে—এমনটি মানতে নারাজ ইরান। ভাইস প্রেসিডেন্টের সংবাদ সম্মেলনের ঠিক আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ইরান সরকার জানায়, উভয় পক্ষের প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা নথিপত্র বিনিময় অব্যাহত রাখবেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই আলোচনার ব্যর্থতা কেবল দুটি দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। দুই সপ্তাহ আগে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতিটি এই আলোচনার ওপর ভিত্তি করেই টিকে ছিল। এখন সেই সমঝোতা ভেঙে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের দাবানল ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে ইসলামাবাদ ত্যাগ করার সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের দেহভঙ্গিতে কূটনৈতিক হতাশার ছাপ ছিল স্পষ্ট। ‘এয়ার ফোর্স টু’ বিমানে ওঠার আগে হাত নেড়ে বিদায় জানালেও, সেই বিদায়বার্তায় ছিল এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ইঙ্গিত।

শান্তির যে ক্ষীণ আশা নিয়ে বিশ্ববাসী ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে ছিল, তা আপাতত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার অবিশ্বাসের দেয়ালে ধাক্কা খেয়ে মুখ থুবড়ে পড়ল।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.