একদিকে যখন পাকিস্তানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা চলছে, অন্যদিকে তখন লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, শনিবার পৃথক তিনটি স্থানে এই প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। শান্তি প্রচেষ্টার সমান্তরালে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে পুনরায় অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি সংঘটিত হয়েছে নাবাতিয়েহ জেলার কফর সির শহরে। সেখানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানের গোলার আঘাতে চারজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন প্যারামেডিক বা স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন। একই হামলায় আরও চারজন গুরুতর আহত হন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী সেবাকর্মীদের ওপর হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হলেও, লেবানন সীমান্তে এই রক্তক্ষরণ থামছে না।
একই জেলার জেফতা শহরে চালানো দ্বিতীয় হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। এনএনএ-র তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের একজন সদস্য রয়েছেন, যিনি উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ছিলেন। এই হামলায় আরও দুজন আহত হন। এছাড়া তৌল শহরে তৃতীয় দফা বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও তিন নাগরিক, যেখানে আহত হয়েছেন আরও তিনজন।
দক্ষিণ লেবাননের এই ধ্বংসলীলা ও বেসামরিক এবং সেবাকর্মীদের প্রাণহানির বিষয়ে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদে চলমান কূটনৈতিক দরকষাকষির টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতেই মাঠপর্যায়ে হামলার এই তীব্রতা বজায় রাখছে তেল আবিব।
যখন বিশ্ববাসী একটি টেকসই শান্তি চুক্তির আশায় ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে, তখন দক্ষিণ লেবাননের আকাশে বারুদের গন্ধ আর লাশের মিছিল এক বিপরীত চিত্র তুলে ধরছে। মানবিক সহায়তাকারী ও উদ্ধারকর্মীদের মৃত্যু এই সংঘাতের ভয়াবহতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যদি এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো ইসরায়েলকে সংযত করতে ব্যর্থ হয়, তবে শান্তি আলোচনার টেবিল থেকে আসা যেকোনো সিদ্ধান্ত কেবল কাগুজে দলিলেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা