মোহাম্মদ রেজা আরেফ |
ইসলামাবাদে চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সংলাপের ভাগ্য এখন ওয়াশিংটনের নীতিগত অবস্থানের ওপর ঝুলে আছে। ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, মার্কিন আলোচকরা যদি ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’ এজেন্ডা ত্যাগ করে প্রকৃত অর্থে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা আমেরিকার স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তবেই কেবল একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। অন্যথায়, এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে এবং বিশ্বকে এর চড়া মূল্য দিতে হবে।
দীর্ঘ সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই আলোচনায় অংশ নিতে শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছেছে ইরানের একটি উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদল। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবফের নেতৃত্বে এই দলে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার।
মোহাম্মদ রেজা আরেফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) বলেন, "ইসলামাবাদে যদি আমরা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’-এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করি, তবে তা উভয় পক্ষ ও বিশ্বের জন্য কল্যাণকর হবে। কিন্তু প্রতিনিধিরা যদি ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’ নীতিতে অটল থাকেন, তবে কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়।"
ইরানি প্রতিনিধিদলটি যে বিশেষ বিমানে (ফ্লাইট নম্বর মিনাব ১৬৮) ইসলামাবাদে পৌঁছেছে, সেটি একটি প্রতীকী প্রতিবাদ। এই নম্বরটি গত ২৮ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক হামলায় নিহত ১৬৮ স্কুলছাত্রীর স্মৃতি বহন করছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে চালানো বিমান হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়িসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়। ইরান এরপর থেকে ইসরায়েল-অধিকৃত অঞ্চল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে।
ভাইস প্রেসিডেন্ট আরেফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে ইরান তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগের চেয়েও শক্তিশালী করবে। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তায়। ৮ এপ্রিল গৃহীত ১০-দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদ সংলাপ শুরু হলেও আস্থার অভাব প্রতিটি পদক্ষেপেই স্পষ্ট। তেহরান স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা কেবল তখনই চুক্তিতে যাবে যখন মার্কিন নীতিনির্ধারণী মহল তেল আবিবের স্বার্থের চেয়ে ওয়াশিংটনের নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেবে।
ইসলামাবাদের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক কেবল মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থামানোর লড়াই নয়, বরং এটি ওয়াশিংটনের দীর্ঘমেয়াদী পররাষ্ট্রনীতির একটি বড় পরীক্ষা। ইরান তাদের শর্ত ও অবস্থান পরিষ্কার করার মাধ্যমে বল এখন যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে পাঠিয়ে দিয়েছে। জেডি ভ্যান্স ও তার দল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানকে বাস্তবে কতটুকু প্রতিফলন ঘটাতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামীর বিশ্বশান্তি।
বিষয় : ইরান যুদ্ধবিরতি আমেরিকা মোহাম্মদ রেজা আরেফ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
