পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। ছবি: রয়টার্স/সংগৃহীত
বিশ্ব রাজনীতির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অবশেষে মুখোমুখি আলোচনায় বসেছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং লেবানন সংকটের স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বৈঠককে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আলোচনার শুরুতেই লেবানন ইস্যুতে তেহরান তাদের অনড় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ইসরায়েলি আগ্রাসন পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো আপস নয়।
ইসলামাবাদ থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, পাকিস্তানের শক্তিশালী মধ্যস্থতায় কয়েক স্তরের কূটনৈতিক শলা-পরামর্শের পর দুই দেশের প্রতিনিধিদল আলোচনায় বসতে সম্মত হয়। ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে ওয়াশিংটনের প্রাথমিক সায় এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্রতা কিছুটা কমে আসায় এই আলোচনার পথ সুগম হয়েছে। বিশেষ করে কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করতেই মূলত এই টেবিলে বসেছে ইরান।
আলোচনার কক্ষে ইরান অত্যন্ত কঠোরভাবে লেবানন পরিস্থিতি উত্থাপন করেছে। তেহরানের মতে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এখনো খাতা-কলমেই সীমাবদ্ধ, মাঠপর্যায়ে এর প্রতিফলন নগণ্য। ইরানি প্রতিনিধিদল সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইসরায়েলকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে বাধ্য করার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের। পাকিস্তানের মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ইরান স্পষ্ট করেছে যে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে এমন কোনো সিদ্ধান্তে তারা সায় দেবে না।
আলোচনা শুরু হলেও দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের আস্থাহীনতা স্পষ্ট। অতীতে ওয়াশিংটনের ‘প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের’ তিক্ত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখেই ইরানি প্রতিনিধিদল টেবিলে বসেছে। ইরানের পক্ষ থেকে বারবার পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে যে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো ধরনের বিশ্বাস রাখতে পারছে না। এই গভীর সংশয় ও অবিশ্বাসের মধ্যেই মূলত পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এক ধরনের পরীক্ষামূলক সংলাপে অংশ নিচ্ছে তারা।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হলো যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদগুলো ছাড়িয়ে আনা। বিষয়টি নিয়ে সূক্ষ্ম কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের আলোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ইসলামাবাদে চলমান এই আলোচনায় দুই দেশের অর্থ ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত রয়েছেন, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এবারের আলোচনা কেবল রাজনৈতিক সদিচ্ছার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং একটি কাঠামোগত সমাধানের দিকে এগোচ্ছে।
ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্বশান্তির জন্য একটি ক্ষীণ আলোকবর্তিকা হতে পারে, তবে তা নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপায়ণের ওপর। লেবানন ইস্যুতে ইরানের অনড় অবস্থান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাস এই আলোচনাকে কতটা সফল হতে দেবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভাগ্য নির্ধারণী এই কূটনৈতিক দাবার চালে শেষ পর্যন্ত শান্তি জয়ী হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
বিষয় : পাকিস্তান ইরান যুক্তরাষ্ট্র সংলাপ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
