× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

আইসেনহাওয়ার থেকে বুশ: যখনই প্রয়োজন, তখনই পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩৭ পিএম । আপডেটঃ ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩৮ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রেসিডেন্টরা পাকিস্তানের শরণ নিয়েছিলেন। ছবি: ডনের প্রতিবেদনের স্ক্রিনশট

সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কখনো ছিল সুউচ্চ হিমালয়ের মতো দৃঢ়, আবার কখনো চরম অবিশ্বাসের কুয়াশায় ঢাকা। আজ শনিবার যখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে ঐতিহাসিক এক শান্তি আলোচনায় বসছেন, তখন বিশ্ববাসীর স্মৃতিতে ভেসে উঠছে অতীতেরই কিছু কালজয়ী ছবি। ইতিহাসের প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে ওয়াশিংটন যখনই সংকটে পড়েছে, তখনই তারা দ্বারস্থ হয়েছে ইসলামাবাদের।

১০ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তা সদস্যের কঠোর পাহারায় মোঘল স্থাপত্য আর আধুনিকতার মিশেলে গড়া ইসলামাবাদ আজ কেবল একটি শহর নয়, বরং বিশ্বশান্তির এক নতুন দোরগোড়া।

সুগন্ধি মাখা করাচি ও আইসেনহাওয়ার (১৯৫৯)

পাকিস্তানের মাটিতে পা রাখা প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট ছিলেন ডোয়াইট ডি আইসেনহাওয়ার। ১৯৫৯ সালের সেই সফরে করাচি শহরকে সাজানো হয়েছিল রাজকীয় সাজে। দারিদ্র্যের কদর্য রূপ যেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের চোখে না পড়ে, সেজন্য করাচির একটি দরিদ্র কলোনির নর্দমার দুর্গন্ধ ঢাকতে প্যারিস থেকে ড্রামভর্তি সুগন্ধি আনিয়ে ছিটানো হয়েছিল রাস্তার দুপাশে। সেই সফরের পর পাকিস্তান উপহার পেয়েছিল একটি পূর্ণাঙ্গ বিমানবাহিনী এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র’ তকমা।

উটের গাড়ির চালক ও আকস্মিক বন্ধুত্ব (১৯৬১)

কূটনীতি কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ থাকে না, মাঝেমধ্যে তা হৃদয়ও স্পর্শ করে। ১৯৬১ সালে করাচির যানজটে আটকা পড়ে তৎকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসনের নজর যায় উটের গাড়ির চালক বশির আহমেদের ওপর। গাড়ি থেকে নেমে বশিরের সাথে হাত মেলান জনসন এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে আমন্ত্রণ জানান। সেই সাধারণ বশিরের যুক্তরাষ্ট্র সফর ছিল তৎকালীন স্নায়ুযুদ্ধের সময়ে এক অভাবনীয় জনসংযোগ কৌশল। পরবর্তীতে ১৯৬৭ সালে জনসন যখন প্রেসিডেন্ট হিসেবে পাকিস্তান আসেন, তখনো সেই বন্ধুত্বের রেশ ছিল অম্লান।

নিশাচর সফর ও ক্রিকেটের মাঠ (২০০৬)

সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধের সময় পাকিস্তান ছিল ওয়াশিংটনের সবচেয়ে জরুরি ও বিপজ্জনক বন্ধু। ২০০৬ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ যখন ইসলামাবাদে নামেন, তখন পুরো শহর ছিল লকডাউন। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার খাতিরে অন্ধকার বিমানঘাঁটিতে পর্দা ঢাকা অবস্থায় নেমেছিলেন তিনি। সামরিক শাসক পারভেজ মোশাররফের সাথে সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের ফাঁকেও বুশ সময় বের করেছিলেন তৎকালীন ক্রিকেট কিংবদন্তি ইনজামামুল হকের সাথে করমর্দন করার জন্য। যা ছিল মূলত পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের মন জয়ের এক মৃদু প্রচেষ্টা।

বাইডেনের ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ (২০১১)

জো বাইডেন ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে দুইবার পাকিস্তান সফর করেন। প্রথমবার তিনি ছিলেন বন্ধুত্বের বারতা বাহক, পেয়েছিলেন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ সম্মান ‘হিলাল-ই-পাকিস্তান’। তবে ২০১১ সালের দ্বিতীয় সফরে তিনি এসেছিলেন ‘ক্যারেট অ্যান্ড স্টিক’ নীতি নিয়ে। একদিকে উন্নয়নের প্রলোভন, অন্যদিকে আল-কায়েদা দমনে ব্যর্থতার জন্য শাস্তির হুঁশিয়ারি।

পাকিস্তানের জন্য আজকের এই দিনটি অত্যন্ত গৌরবের। দীর্ঘ এক দশক পর কোনো উচ্চপর্যায়ের মার্কিন প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে অবস্থান করছেন। ইতিহাস সাক্ষী দেয়, ১৯৭১ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার গোপন সংযোগ স্থাপনে পাকিস্তানই ছিল প্রধান সেতুবন্ধন। হেনরি কিসিঞ্জার পাকিস্তানের বিমানে চড়েই প্রথম বেইজিংয়ের সাথে তুষারপাত গলিয়েছিলেন।

আইসেনহাওয়ারের করাচি সফর থেকে আজকের জেডি ভ্যান্সের ইসলামাবাদ অবস্থান—প্রতিটি ঘটনাই প্রমাণ করে যে, বিশ্ব রাজনীতির দাবা খেলায় পাকিস্তানকে উপেক্ষা করা প্রায় অসম্ভব। আজকের ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা যদি সফল হয়, তবে তা কেবল পাকিস্তানের কূটনৈতিক বিজয় হবে না, বরং তা হবে ইসলামাবাদের সেই ঐতিহাসিক ভূমিকার এক আধুনিক সংস্করণ। সাত দশক আগে যে সম্পর্কের শুরু হয়েছিল ‘প্যারিসীয় সুগন্ধি’ দিয়ে, আজ তা ‘শান্তির সুবাস’ ছড়িয়ে বিশ্বকে নতুন পথ দেখাবে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।


তথ্যসূত্র: ডন


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.