× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৪ পিএম । আপডেটঃ ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৪ পিএম

ইসলামাবাদে চূড়ান্ত আলোচনার আগে জব্দকৃত সম্পদ ফেরত দেওয়ার মধ্য দিয়ে ইরানের সাথে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটানোর ইঙ্গিত দিল ওয়াশিংটন।

দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা আর সাম্প্রতিক যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সম্পর্কে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক মোড় নিতে যাচ্ছে। পাকিস্তানে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে জানা গেছে, কাতারসহ বিভিন্ন বিদেশি ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের বিশাল অংকের জব্দকৃত সম্পদ বা অর্থ ফিরিয়ে দিতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন। বৈশ্বিক কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা একে একটি বড় ধরনের ‘বরফ গলার ইঙ্গিত’ এবং সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পথে প্রথম সোপান হিসেবে দেখছেন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রটি জানান, জব্দকৃত সম্পদ অবমুক্ত করার বিষয়টি সরাসরি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও সেখানে নিরবচ্ছিন্ন জাহাজ চলাচলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। তেহরান মনে করছে, ওয়াশিংটনের এই ইতিবাচক পদক্ষেপ কেবল একটি আর্থিক লেনদেন নয়, বরং একটি টেকসই শান্তি চুক্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতার এক বড় বহিঃপ্রকাশ।

এর আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ স্পষ্ট শর্ত দিয়েছিলেন যে, কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনার টেবিলে বসার আগেই বিদেশে আটকে থাকা ইরানের প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের সম্পদ ফেরত দিতে হবে। আজকের এই উন্নয়ন সেই শর্তেরই একটি কৌশলগত বাস্তবায়ন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্বের মোট ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি। গত কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনায় ইরান এই প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের এই সম্পদ ফেরতের সিদ্ধান্ত মূলত জ্বালানি করিডোরটি উন্মুক্ত করার একটি বিনিময়ে প্রাপ্তি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়াশিংটন যদিও এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি, তবে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, আজ বিকেলের বৈঠকেই এই সম্পদের আইনি হস্তান্তর প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করা হতে পারে।

পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় আজ বিকেলে তেহরান ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধিরা মুখোমুখি হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের উপস্থিতি এই সংলাপকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। অন্যদিকে ইরানের পক্ষে স্পিকার কালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তাদের দীর্ঘদিনের দাবিনামা নিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন। আলোচনার শুরুতেই সম্পদ ফেরতের খবরটি দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান অবিশ্বাসের দেয়াল কিছুটা হলেও কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আধুনিক কূটনীতিতে ‘সদিচ্ছা’ প্রকাশের ভাষা সবসময় মৌখিক হয় না, মাঝেমধ্যে তা হয় আর্থিক ও কৌশলগত। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত যদি বাস্তবায়ন হয়, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনই করবে না, বরং বিশ্ব অর্থনীতিকেও বড় ধরনের ধস থেকে রক্ষা করবে। তবে এই সম্পদ ফেরতের বিপরীতে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে কতটা ছাড় দেবে, তা-ই এখন দেখার বিষয়। ইসলামাবাদের এই বসন্ত কি সত্যিই বিশ্বশান্তির বার্তা আনবে, নাকি এটি কেবল সাময়িক কৌশল—তার উত্তর মিলবে বিকেলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.