× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

মেলানিয়া-এপস্টেইন ‘অন্তরঙ্গ’ ছবি, ম্যাক্রোঁকে জড়িয়ে ডিজিটাল ষড়যন্ত্র

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৪ পিএম । আপডেটঃ ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:৫৫ পিএম

কারিগরি বিশ্লেষণে দেখা গেছে জেফরি এপস্টেইনের ছবির সাথে মেলানিয়া ট্রাম্পের মুখমণ্ডলটি ডিজিটাল উপায়ে জোড়া লাগানো হয়েছে। ভাইরাল হওয়া সেই ভুয়া ছবি (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

তথ্যযুদ্ধের এই যুগে প্রযুক্তির অপব্যবহার কীভাবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে কলুষিত করতে পারে, তার এক নগ্ন বহিঃপ্রকাশ ঘটল সম্প্রতি। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এবং দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের একটি ‘অন্তরঙ্গ’ ছবি ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রকাশ করেছেন বলে যে দাবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে প্রমাণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে, আলোচিত ছবিটি কেবল ডিজিটাল কারসাজিই নয়, বরং ম্যাক্রোঁ কখনও এমন কোনো ছবি প্রচার করেননি।

গুজবটি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যকার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দ্বৈরথকে কেন্দ্র করে ডালপালা মেলে। গত ১ এপ্রিল এক ভিডিও বার্তায় ট্রাম্প ফরাসি প্রেসিডেন্ট ও তার স্ত্রী ব্রিজিত ম্যাক্রোঁকে নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেন। এর পাল্টা জবাবে দক্ষিণ কোরিয়া সফররত ম্যাক্রোঁ বলেন, ট্রাম্পের রুচিহীন মন্তব্য কোনো উত্তর পাওয়ার যোগ্য নয়। রাষ্ট্রপ্রধানদের এই বাদানুবাদ চলাকালেই ৫ এপ্রিল থেকে স্প্যানিশ ও আরবিভাষী বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে দাবি করা হয়, ম্যাক্রোঁ প্রতিশোধ নিতে ট্রাম্প-পত্নীর সঙ্গে এপস্টেইনের ‘অন্তরঙ্গ’ ছবি ফাঁস করেছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ছবিটি ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত জেফরি এপস্টেইন মামলার নথিপত্রের একটি বিকৃত রূপ। মূল ছবিতে এপস্টেইনের পাশে এক নারীকে দেখা গেলেও আইনি গোপনীয়তার স্বার্থে মার্কিন কর্তৃপক্ষ তার মুখমণ্ডল কালো বক্সে ঢেকে দিয়েছিল। ‘টম অ্যাডেলসবাক’ নামক একটি ব্যঙ্গাত্মক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ওই নারীর মুখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ফটোশপের মাধ্যমে মেলানিয়া ট্রাম্পের প্রতিচ্ছবি বসানো হয়। পরবর্তীতে ওই অ্যাকাউন্টটি নিজেই স্বীকার করে যে, এটি ছিল স্রেফ একটি ব্যঙ্গাত্মক এডিট।

মিশরের সাংবাদিক নাবিল ওমরান ফেসবুকে প্রথম এই মিথ্যা দাবিটি প্রচার করেন, যা পরবর্তীতে ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৬০ লাখেরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়। তবে ফ্রান্স ২৪ অবজার্ভারসহ একাধিক ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা মার্কিন বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট থেকে মূল ছবির কোড এবং ভাইরাল ছবির ফরেনসিক বিশ্লেষণ করে মেলানিয়া ট্রাম্পের উপস্থিতির কোনো প্রমাণ পায়নি। ফরাসি প্রেসিডেন্টের দাপ্তরিক বা ব্যক্তিগত কোনো ডিজিটাল মাধ্যম থেকেও এ ধরনের কোনো অমর্যাদাকর বিষয় পোস্ট করার নজির মেলেনি।

এই ঘটনাটি কেবল একটি ভুয়া ছবির গল্প নয়, এটি প্রমাণ করে যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা কীভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ব্যবহার করে চরিত্রহননের হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে। তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের চেয়ে দ্রুত প্রতিক্রিয়ার প্রবণতা আজ বিশ্বনেতাদের ব্যক্তিগত জীবনকেও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ফেলছে। পরিশেষে, সত্য উন্মোচনের মধ্য দিয়ে এটিই স্পষ্ট হলো যে—কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লড়াইয়ে ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ অপপ্রচারের পথে হাঁটেননি, বরং ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমেই এই সংকীর্ণ ষড়যন্ত্রটি বোনা হয়েছিল।


তথ্যসূত্র: ফ্রান্স ২৪


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.