× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরান-পাকিস্তান সমীকরণে কোণঠাসা ভারত

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫৮ এএম । আপডেটঃ ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০০ এএম

এবারের সংকটে পাকিস্তানের প্রশংসা হলেও নীরব ভারত, সমালোচনার মুখে মোদী সরকার।

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা এক মহাপ্রলয় আপাতত থমকে দাঁড়িয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্জিত দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক স্বস্তির নিশ্বাস বয়ে আনলেও, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে তা এক নতুন ও অস্বস্তিকর বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই সংকটে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নাটকীয় উত্থান এবং নয়াদিল্লির দৃশ্যত ‘কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতা’ ভারতের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মহলে গভীর আত্মসমীক্ষার দাবি তুলছে।

যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে। সেখানে সংলাপ, স্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ চলাচলের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। তবে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, বিশ্ব নেতারা যখন এই সমঝোতার কারিগর হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করছেন, ভারতের বিবৃতিতে প্রতিবেশী দেশটির নাম পর্যন্ত উচ্চারিত হয়নি। এমনকি ইসলামাবাদে ইরান ও মার্কিন প্রতিনিধিদের গোপন আলোচনার বিষয়েও নয়াদিল্লি অদ্ভুতভাবে নীরব।

ভারতের বিরোধী দলগুলো এই নীরবতাকে ‘জাতীয় কূটনৈতিক পরাজয়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “যে ভূমিকা ভারতের পালন করার কথা ছিল, তা পাকিস্তান করে দেখিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যখন ইসরায়েলকে ‘পিতৃভূমি’ মনে করেন, তখন তিনি শান্তি আলোচনা করবেন কীভাবে?”

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ঘটনাপ্রবাহ পাকিস্তানের জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক বিজয়। ‘পিস অ্যান্ড কনফ্লিক্ট’ গবেষক অশোক সোয়াইনের মতে, “প্রধানমন্ত্রী মোদী বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান সমীকরণে ভারত নিজেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।”

সোয়াইন মনে করিয়ে দেন যে, স্নায়ুযুদ্ধের সময় পাকিস্তান যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছিল, ঠিক একইভাবে এখন তারা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দেওয়াল ভেঙেছে। বর্তমান বিশ্বে পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যাদের একই সঙ্গে ওয়াশিংটন, বেইজিং, মস্কো এবং তেহরানের সাথে কার্যকর সংলাপের পথ খোলা রয়েছে। বিপরীতে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ভারতকে ‘ব্রোকার নেশন’ বা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দেখতে অস্বীকার করলেও, বিশ্লেষকরা মনে করছেন এতে ভারত একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সুযোগ হারিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলে এখন নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত বৈদেশিক নীতির কড়া সমালোচনা চলছে। বিশ্লেষক অভিনব সিং বিষয়টিকে আরও সরাসরি ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, যেখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ট্রাম্পের ডেডলাইন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে সফল হয়েছেন, সেখানে মোদীর ঝুলিতে কেবল নেতানিয়াহুর ‘আলিঙ্গন’ আর ট্রাম্পের ‘অধীনতা’ রয়ে গেছে।

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা মেনন রাও এক দীর্ঘ বিশ্লেষণে জানিয়েছেন, পাকিস্তান এখানে কোনো স্থাপত্যবিদ হিসেবে নয়, বরং অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। তারা সংকীর্ণ এক কূটনৈতিক জানালা খুলে দিয়েছিল, যা বিশ্বকে বড় বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। তিনি ভারতকে সতর্ক করে বলেন, “এটা নীরব থাকার মুহূর্ত নয়, বরং পরিমিত ও ভারসাম্যপূর্ণ কণ্ঠস্বর ব্যবহারের সময়।”

ব্যঙ্গাত্মক বিষয় হলো, ভারত যে পাকিস্তানের এই সাফল্যকে উপেক্ষা করছে, সেই পাকিস্তানের কারণেই ভারতের জ্বালানি সংকট মিটতে চলেছে। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, সাত বছর পর ইরানের তেলবাহী জাহাজ ভারতের বন্দরে ভিড়তে চলেছে—যা এই যুদ্ধবিরতিরই ফসল। ভারতের জ্বালানি ও এলপিজি সমস্যার সমাধান যখন ইসলামাবাদের মধ্যস্থতায় আসে, তখন ‘বিশ্বগুরু’ সাজার আকাক্সক্ষা বড় ধরনের ধাক্কা খায়।

আধুনিক কূটনীতিতে কেবল শক্তিশালী সমরাস্ত্র নয়, বরং বিভিন্ন শিবিরের মধ্যে কথা বলার সক্ষমতাই আসল শক্তি। ইরানের এই সংকটে পাকিস্তান প্রমাণ করেছে তারা এখনো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েনি। অন্যদিকে, ভারত যদি তার পুরনো নিরপেক্ষ ও প্রভাবশালী মধ্যস্থতাকারীর ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে না পারে, তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নেতৃত্বের ব্যাটনটি চিরতরে হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.