× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরানকে থামাতে পাকিস্তানের ওপরই ভরসা করলেন ট্রাম্প: এফটির

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৭ পিএম । আপডেটঃ ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৩৮ পিএম

ওভাল অফিসে একান্তে আলাপচারিতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে ইসলামাবাদের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই বিশেষ বৈঠক। ছবি: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়

প্রকাশ্যে হুঙ্কার আর আড়ালে সমঝোতার এক নাটকীয় সমীকরণ দেখল বিশ্ব। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানকে ‘ধূলিসাৎ’ করার হুমকি দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই হোয়াইট হাউসের অন্দরমহলে চলছিল যুদ্ধ থামানোর প্রাণপণ আকুতি। ব্রিটিশ দৈনিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস (এফটি)-এর এক বিস্ফোরক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাত ও তেলের বাজারের অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে আনতে পাকিস্তানকে ব্যবহার করে ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে রাজি করিয়েছে ওয়াশিংটন।

দীর্ঘ কয়েক সপ্তাহের টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে গত মঙ্গলবার দুই সপ্তাহের এক সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। এই চুক্তির নেপথ্যে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির।

গত মঙ্গলবার সকালেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, তাঁর শর্ত না মানলে ইরানের হাজার বছরের ‘সভ্যতা’ মুছে ফেলা হবে। অথচ পর্দার আড়ালে চিত্রটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরানি প্রতিরোধের মুখে মার্কিন অর্থনীতি ও কৌশলগত অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ায় ট্রাম্প প্রশাসন গত ২১ মার্চ থেকেই পাকিস্তানের ওপর চাপ দিচ্ছিল যাতে তারা তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনে।

হোয়াইট হাউসের ধারণা ছিল, প্রতিবেশী মুসলিম দেশ হিসেবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ইরান সহজে গ্রহণ করবে। পাকিস্তানের উচ্চপদস্থ পাঁচটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে জেনারেল আসিম মুনির মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে দফায় দফায় ফোনালাপ করেন এবং পরবর্তীতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দুই সপ্তাহের এই বিরতির বিষয়টি চূড়ান্ত করেন।

ঘটনাপ্রবাহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট। এক্স-এ (সাবেক টুইটার) তিনি এই উদ্যোগকে ‘পাকিস্তানের নিজস্ব জয়’ বলে দাবি করলেও, তাঁর পোস্টে ভুলবশত ‘খসড়া’ শব্দটি রয়ে গিয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি অকাট্য প্রমাণ যে পুরো বিবৃতিটি আসলে হোয়াইট হাউস থেকে লিখে দেওয়া হয়েছিল, যা পাকিস্তান কেবল প্রচার করেছে।

আলোচনা চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ১৫ দফার একটি খসড়া প্রস্তাব দিলে ইরান তার বিপরীতে নিজস্ব ১০ দফা পেশ করে। দীর্ঘ দরকষাকষিতে ইরান তাদের মজুত ইউরেনিয়ামের পরিমাণ কমাতে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে নীতিগতভাবে রাজি হয়।

এই জট খুলতে বেইজিংয়ের ভূমিকাও ছিল উল্লেখযোগ্য। চীন পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার্থে ইরানের ওপর প্রচ্ছন্ন চাপ সৃষ্টি করেছিল। ট্রাম্প নিজেও এক সাক্ষাৎকারে বেইজিংয়ের প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন।

যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও শঙ্কা কাটেনি। ইরানের শক্তিশালী সামরিক শাখা ‘ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি) এই চুক্তির ঘোর বিরোধী। সম্প্রতি সৌদি আরবের জুবাইল এলাকায় ড্রোন হামলাকে শান্তিপ্রক্রিয়া নস্যাৎ করার শেষ চেষ্টা হিসেবে দেখছে ইসলামাবাদ।

অন্যদিকে, ইসরায়েল সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে লেবাননে তাদের অভিযান এই যুদ্ধবিরতির আওতায় পড়বে না। ফলে তেহরান ও তেল আবিবের বিপরীতমুখী অবস্থানে এই শান্তি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।


"শান্তিপ্রক্রিয়া নষ্ট করার মতো অনেক বাধা এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা পরিস্থিতিকে যেকোনো সময় আবারও অগ্নিগর্ভ করে তুলতে পারে।" — নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পাকিস্তানি কূটনীতিক


ইসলামাবাদে শীঘ্রই একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে যেখানে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে সেই টেবিলের দিকে—সেখানে কি স্থায়ী শান্তির পথ মিলবে, নাকি এটি কেবলই ঝড়ের আগের নিস্তব্ধতা?


তথ্যসূত্র: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.