ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক উত্তেজনার রেশ কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা 'ইরনা' জানিয়েছে, আগামীকাল শনিবার থেকে সারা দেশে সব ব্যাংকের শাখাগুলোতে পুরোদমে লেনদেন ও দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হবে। ইরানের ব্যাংক সমন্বয় কাউন্সিলের পক্ষ থেকে এই ঘোষণা আসার পর সাধারণ নাগরিক ও ব্যবসায়িক মহলে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং কার্যক্রম কিছুটা সীমিত বা সতর্কতার সাথে পরিচালিত হচ্ছিল। তবে নতুন এই নির্দেশনার ফলে রাজধানী তেহরানে অবস্থিত ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায়ের সব শাখা এখন থেকে নিয়মিত সময়সূচী অনুযায়ী গ্রাহকদের সেবা প্রদান করবে। ব্যাংক সমন্বয় কাউন্সিল স্পষ্ট করেছে যে, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং জনজীবন স্বাভাবিক করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক শঙ্কা কাটিয়ে উঠতে এই সিদ্ধান্তকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের গতিশীলতা ধরে রাখতে ব্যাংকিং খাতের পূর্ণ সক্রিয়তা অপরিহার্য।
ইরানের অর্থনীতির জন্য ব্যাংকিং খাতের এই স্বাভাবিক প্রত্যাবর্তন একটি ইতিবাচক সংকেত। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তেহরানের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে দেশটি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক চাকা সচল রাখতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে কর্মসপ্তাহের শুরুতেই (ইরানে শনিবার সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস) এই কার্যক্রম শুরু হওয়াকে বাজার ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আঞ্চলিক সংকটের মেঘ পুরোপুরি না কাটলেও ইরানের ব্যাংকিং খাত খোলার এই সিদ্ধান্ত মূলত একটি 'আস্থার বার্তা'। এটি কেবল সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাবে না, বরং বহির্বিশ্বকে ইরানের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার একটি ইঙ্গিত প্রদান করবে। এখন দেখার বিষয়, এই আর্থিক সচলতা দেশটির সামগ্রিক বাজারে কতটুকু গতি সঞ্চার করতে পারে।
তথ্যসূত্র: আল–জাজিরা