× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

লেবাননে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলা, হতাহত ৩০০

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৩ এএম । আপডেটঃ ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০৩ এএম

ইসরায়েলি বিমান হামলার পর বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে কালো ধোঁয়া। ছবি: এএফপি

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ও কূটনৈতিক আশাবাদের কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কবলে পড়েছে লেবানন। বুধবার লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় এলাকায় অস্থিরতা প্রশমনের যখন একটি ক্ষীণ আশা তৈরি হয়েছিল, ঠিক তখনই লেবাননজুড়ে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এই নজিরবিহীন হামলায় অন্তত তিন শতাধিক লেবাননি হতাহত হয়েছেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, এবারের সংঘাত শুরুর পর এটিই ছিল লেবাননের ওপর তাদের চালানো সবচেয়ে তীব্র ও ঘনীভূত আক্রমণ।

বুধবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো লেবাননের ১০০টিরও বেশি কৌশলগত ও জনবহুল স্থানে বোমাবর্ষণ করে। তাসনিম সংবাদ সংস্থা ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের হারিস শহর থেকে শুরু করে রাজধানী বৈরুত পর্যন্ত কোনো এলাকা এই তাণ্ডব থেকে রেহাই পায়নি। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননের সাইদা শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র ফুটে উঠেছে।

হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর, বেকা উপত্যকা এবং হারমেল অঞ্চলকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কাইফুন ও শুয়াইফাত এলাকার আকাশে ঘন কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে এবং ক্রমাগত বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে বিস্তীর্ণ জনপদ।

সবচেয়ে ভয়াবহ ও অমানবিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব লেবাননের শামসতার এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইতিপূর্বে নিহত শহীদদের দাফন অনুষ্ঠান চলাকালীন স্থানীয় একটি সমাধিস্থলে বোমাবর্ষণ করে ইসরায়েলি বাহিনী। শোকসন্তপ্ত মানুষের ভিড়ে এই হামলা চালানোয় সেখানে নতুন করে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটে, যা আন্তর্জাতিক মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘চ্যানেল টুয়েলভ’ দাবি করেছে, এবারের অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল হিজবুল্লাহর বর্তমান মহাসচিব শেখ নায়িম কাসেমকে সশরীরে নির্মূল করা। তবে গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত করেছে যে, হামলার সময় তিনি নির্দিষ্ট ওই স্থানে উপস্থিত না থাকায় অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন।

এই আকস্মিক হামলা কেবল লেবাননকে ক্ষতবিক্ষত করেনি, বরং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যে যুদ্ধবিরতির রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, তাকেও খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। তেহরান ইতিমধ্যে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করে ইসরায়েলের এই সর্বাত্মক হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে ধাবিত করছে।

লেবাননের আকাশে আজ বারুদের গন্ধ আর বাতাসে আর্তনাদ। যখন বিশ্ব শান্তির প্রার্থনা করছিল, তখন বৈরুতের উপকণ্ঠে বোমার গর্জন প্রমাণ করল যে, এই অঞ্চলে কূটনীতি এখনও কামানের গোলার কাছে অসহায়। ৩শ’ মানুষের রক্তে রঞ্জিত এই বুধবার কেবল লেবাননের শোক নয়, বরং আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম পরাজয়ের প্রতীক হয়ে থাকবে। এই ধ্বংসলীলা বন্ধ না হলে হরমুজ থেকে বৈরুত—গোটা অঞ্চল যে আগুনের গ্রাসে পড়বে, তা নেভানো হয়তো আর কারও পক্ষেই সম্ভব হবে না।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.