× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

হামলা থামলে থামবে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮ পিএম । আপডেটঃ ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:১০ পিএম

তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ফাইল ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধাবস্থার মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়ে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে চলমান সকল হামলা বন্ধ হলে তেহরানও তাদের পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিত করতে প্রস্তুত। বুধবার এক তাৎপর্যপূর্ণ বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান এই অঞ্চলে যুদ্ধের বিস্তৃতি চায় না, তবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো শর্তহীন আত্মসমর্পণও করবে না।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি তেহরানে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, "যদি প্রতিপক্ষ পক্ষগুলো (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) তাদের আগ্রাসন বন্ধ করে, তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও পাল্টা আক্রমণ থেকে বিরত থাকবে।" তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলাগুলো সম্পূর্ণভাবে আত্মরক্ষামূলক এবং আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে পরিচালিত হয়েছে।

তেহরানের এই অবস্থানকে বিশ্লেষকরা দেখছেন একটি 'কৌশলগত বার্তা' হিসেবে। এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এটিই বোঝাতে চাইছে যে, উত্তেজনার পারদ কমানোর দায়ভার এখন মূলত ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের ওপর।

গত কয়েক দিনে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনার মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকা এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। এর জবাবে ইরানও ইসরায়েলের তৃতীয় বৃহত্তম শহর হাইফাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হেনেছে।

যদিও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আগামী দুই সপ্তাহের জন্য একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, কিন্তু আরাগচির বক্তব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, স্থায়ী স্থিতিশীলতা পেতে হলে ইরানকে দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তা হতে হবে দৃশ্যমান ও টেকসই।

পারস্য উপসাগরের এই সংকটের প্রভাব কেবল সীমান্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। বিশ্বশক্তিগুলো আশঙ্কা করছে, এই সংঘাত যদি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। আরাগচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। হামলা অব্যাহত থাকলে ইরান তার প্রতিরক্ষা অভিযান আরও কঠোর ও জোরদার করবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রস্তাব মূলত যুদ্ধের দাবানলের মাঝে শান্তির এক ক্ষীণ সুতো। তেহরান এখন বল ঠেলে দিয়েছে পশ্চিমা জোটের কোর্টে। যদি কূটনৈতিক পথে এর সমাধান না আসে, তবে এই সাময়িক ‘কৌশলগত সংযম’ অচিরেই এক সর্বাত্মক আঞ্চলিক সংঘাতের রূপ নিতে পারে। বিশ্ব এখন রুদ্ধশ্বাসে তাকিয়ে আছে হোয়াইট হাউস ও তেল আবিবের প্রতিক্রিয়ার দিকে—তারা কি কূটনীতির হাত ধরবে, নাকি যুদ্ধের দামামা আরও বাড়িয়ে দেবে?

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.