লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের টাইর এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলার শিকার ভবন থেকে ধোয়া বেরোচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের কাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতির রেশ কাটতে না কাটতেই মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও যুদ্ধের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সমঝোতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা এবং প্রধানমন্ত্রী বিনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অনড় অবস্থান এই ভঙ্গুর শান্তি প্রক্রিয়াকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির যে ক্ষীণ আশা জেগেছিল, তা এখন চরম অনিশ্চয়তার আবর্তে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা যখন বিশ্বজুড়ে স্বস্তি বয়ে আনছিল, ঠিক তখনই লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে পুনরায় আক্রমণ শুরু করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, লেবাননের টায়ার শহরে একটি হাসপাতালের নিকটবর্তী এলাকায় এবং একটি অ্যাম্বুলেন্সে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যাতে অন্তত চারজন লেবানিজ নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেকা উপত্যকার মাশগারা ও খিয়াম শহরে কামানের গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খিয়াম এলাকায় হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা লড়াই এখন আরও বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরপরই তেল আবিব থেকে আসা বার্তা পুরো ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ইরান-আমেরিকা যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই সমঝোতাকে মেনে নিতে পারছেন না নেতানিয়াহু, যা হোয়াইট হাউসের সঙ্গে ইসরায়েলের নীতিগত দূরত্বকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। এই অনড় অবস্থান সংঘাতকে একটি অনিয়ন্ত্রিত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই সংক্ষিপ্ত অথচ তীব্র সংঘাতের ফলাফল নিয়ে চলছে নানা বিশ্লেষণ। ডোনাল্ড ট্রাম্প একে আমেরিকার ‘চূড়ান্ত বিজয়’ বলে দাবি করলেও তেহরানের রাজপথে ইরানি নাগরিকদের বিজয় মিছিল ভিন্ন বারতাই দিচ্ছে। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের উপদেষ্টা আলেকজান্ডার দুগিন এক বিস্ফোরক বিশ্লেষণে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধে প্রকৃতপক্ষে পরাজিত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজতন্ত্র শাসিত দেশগুলো। তাঁর মতে, সংঘাতের ফলে এই অঞ্চলের রাজতান্ত্রিক দেশগুলোর ইমেজ ও অর্থনীতি অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
আপাতত ১৫ দিনের এই যুদ্ধবিরতিকে অনেকেই কেবল একটি ‘কৌশলগত বিরতি’ হিসেবে দেখছেন। তেহরানের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আশঙ্কা প্রবল যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র এই সময়ে পুনর্গঠিত হয়ে আরও বড় কোনো হামলার প্রস্তুতি নিতে পারে। তবুও ধ্বংসস্তূপের মাঝে দাঁড়িয়ে বিশ্ববাসী আশা করছে, এই অস্থায়ী বিরতি যেন কূটনীতির মাধ্যমে একটি টেকসই ও স্থায়ী শান্তি চুক্তিতে রূপ পায়।
মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করছে যে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের সদিচ্ছাই কেবল শান্তি ফেরাতে যথেষ্ট নয়। ইসরায়েলের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং লেবানন ফ্রন্টে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা যেকোনো মুহূর্তে এই যুদ্ধবিরতির সুতো ছিঁড়ে ফেলতে পারে। শান্তি এখন কেবল সময়ের ব্যবধান নাকি আরেকটি প্রলয়ঙ্ককরী ঝড়ের পূর্বাভাস, তার উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক ঘটনাবলির ওপর।
বিষয় : যুক্তরাষ্ট্র ইরান লেবানন যুদ্ধ
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
