× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যেকোনো সময় ভেঙে যেতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১২ পিএম । আপডেটঃ ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪:৪০ পিএম

রণক্ষেত্রের উত্তেজনার মাঝে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কায় আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

দীর্ঘ উত্তেজনার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখনো যুদ্ধের ঘনঘটা কাটেনি। কূটনীতির টেবিলে শান্তির প্রস্তাব থাকলেও রণক্ষেত্রে বিপরীতমুখী বাস্তবতার কারণে এই যুদ্ধবিরতি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার প্রবল আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ধ্বংসের কিনারা থেকে আপাতত ফেরার এই ক্ষণস্থায়ী সুযোগটি কি দীর্ঘস্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে, নাকি এটি আরও বড় কোনো সংঘাতের পূর্বাভাস—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে দানা বাঁধছে চরম সংশয়।

শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল। পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকেই নির্ধারিত হবে পরবর্তী ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ। এই সমঝোতার প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’। ইরান তাদের সার্বভৌমত্ব এবং এই জলপথের ওপর নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার শর্তে অনড়। যদিও প্রণালীটি পুনরায় খুলে দিলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে, তবে তেহরানের শর্ত ওয়াশিংটন কতটুকু মেনে নেবে, তা এখনো অস্পষ্ট।

যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক তৎপরতায়। ট্রাম্পের ঘোষণার মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে লেবাননে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। যেহেতু প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতির শর্তে লেবানন ফ্রন্টও অন্তর্ভুক্ত ছিল, তাই ইসরায়েলের এই সরাসরি পদক্ষেপ পুরো শান্তি প্রক্রিয়াকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে কঠোর অবস্থানে রয়েছে, তা সমঝোতার পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এই সংক্ষিপ্ত সময়ের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের যে চিত্র উঠে আসছে, তা রীতিমতো ভয়াবহ। বিশিষ্ট বিশ্লেষক অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ ফরিদ হোসেনের তথ্যমতে, এই যুদ্ধে ইরানে অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৩ জন সৈন্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামরিক প্রাণহানির বাইরেও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা সংস্কার করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হবে।

সাময়িক এই যুদ্ধবিরতি বিশ্ববাসীর জন্য এক চিলতে স্বস্তির খবর বয়ে আনলেও এর ভিত্তি অত্যন্ত নড়বড়ে। একদিকে কূটনীতির আহ্বান, অন্যদিকে ইসরায়েলের পাল্টা আক্রমণ—এই দ্বিমুখী বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন ইসলামাবাদের বৈঠকের ওপর নির্ভর করছে। ১৪ দিনের এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে যদি কোনো টেকসই সমাধান না আসে, তবে এই অঞ্চল আবারও এক ভয়াবহ অন্ধকারের অতলে তলিয়ে যেতে পারে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.