× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরানের ১০ দফা ও ট্রাম্পের ‘ইউ-টার্ন’

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৬ এএম । আপডেটঃ ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৬ এএম

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ থেকে যুদ্ধের কালো মেঘ আপাতত সরে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। ইরানের বিরুদ্ধে চরম সামরিক পদক্ষেপের হুমকি থেকে নাটকীয়ভাবে সরে এসে তেহরানের প্রস্তাবিত ‘১০ দফা’ শর্তকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মেনে নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘদিনের বৈরিতা আর কয়েক সপ্তাহের রণহুঙ্কারের পর ওয়াশিংটনের এই আকস্মিক নমনীয়তাকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ‘অপ্রত্যাশিত পিছু হটা’ এবং তেহরানের কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখছেন।

ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন কেবল যুদ্ধবিরতি নয়, বরং তেহরানের দীর্ঘমেয়াদী দাবিগুলোর ব্যাপারেও নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে। ইরানের প্রস্তাবিত এই ১০ দফার মূল স্তম্ভগুলো বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে ব্যাপক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে:

  • সার্বভৌমত্ব ও সুরক্ষা: যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সকল প্রকার সামরিক আগ্রাসন বন্ধের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
  • কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ: হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিরবচ্ছিন্ন ও একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার স্বীকৃতি।
  • নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনীতি: প্রাথমিক ও মাধ্যমিক—উভয় পর্যায়ের সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পূর্ববর্তী সংঘাতের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
  • পারমাণবিক অধিকার: ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান এবং জাতিসংঘ ও আইএইএতে ইরানের বিরুদ্ধে থাকা সকল প্রস্তাবের অবসান।
  • আঞ্চলিক সৈন্য প্রত্যাহার: মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন যুদ্ধকালীন সকল সৈন্য প্রত্যাহার এবং লেবাননের ইসলামিক প্রতিরোধসহ সকল ফ্রন্টে বৈরিতা বন্ধ।


কয়েক দিন আগেও যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুঙ্কার দিচ্ছিলেন, সেখানে এই ১০ দফাকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে মেনে নেওয়াকে তাঁর ব্যক্তিগত অবস্থানের বড় ধরনের বিচ্যুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং নিজ মিত্রদের অসহযোগিতাই ট্রাম্পকে এই ‘ইউ-টার্ন’ নিতে বাধ্য করেছে। তাসনিম নিউজ জানাচ্ছে, এই চুক্তির মাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর পূর্বের চরমপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসে তেহরানের শর্তগুলোর অনিবার্য গুরুত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন।

যদিও এই ১০ দফা আলোচনার নতুন পথ খুলে দিয়েছে, তবে এর প্রতিটি দফার বাস্তবায়ন অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ও সৈন্য প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। ওয়াশিংটন কি কেবল সময়ক্ষেপণের জন্য এই সমঝোতায় এসেছে, নাকি সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে—তা পরবর্তী দুই সপ্তাহের পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট হবে।

১০ দফার এই প্রস্তাব কেবল একটি যুদ্ধবিরতির খসড়া নয়, বরং এটি পশ্চিমা আধিপত্যের বিরুদ্ধে ইরানের এক দৃঢ় অবস্থানের দলিল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সমঝোতামূলক অবস্থান প্রমাণ করে যে, চূড়ান্ত সংঘাতের চেয়ে তেহরানের শর্ত মেনে নেওয়াকেই আপাতত কম ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে হোয়াইট হাউস। ইতিহাসের পাতায় এই ক্ষণটি ওয়াশিংটনের শক্তির সীমাবদ্ধতা এবং তেহরানের কূটনৈতিক ধী-শক্তির এক অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.