× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

১০ দফা মেনে নিল যুক্তরাষ্ট্র, বড় জয়ের দাবি ইরানের

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৬ এএম । আপডেটঃ ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৩ পিএম

এসএনএসসি-র বিবৃতির পর তেহরানের সামরিক সদর দপ্তরে সর্বোচ্চ সতর্কতায় ইরানি কোমান্দোরা।

দীর্ঘ উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে এক ‘অস্বীকার্য ও ঐতিহাসিক’ বিজয়ের ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসি)। বুধবার তেহরান থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চাপিয়ে দেওয়া ‘অবৈধ’ যুদ্ধে ইরান কেবল রাজনৈতিকভাবেই নয়, বরং সামরিক সক্ষমতায় এক চূর্ণ-বিচূর্ণ পরাজয় উপহার দিয়েছে শত্রুপক্ষকে। এই বিজয়কে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মার্কিন আধিপত্যের অবসান হিসেবে চিহ্নিত করছে ইসলামি প্রজাতন্ত্রটি।

বিবৃতিতে এই অভাবিত সাফল্যের পেছনে তিনটি মূল নিয়ামককে কৃতিত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, প্রয়াত ও বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্বের দূরদর্শী প্রজ্ঞা; দ্বিতীয়ত, গত এক দশকে তিল তিল করে গড়ে তোলা ইরানের দুর্ভেদ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা; এবং তৃতীয়ত, প্রতিকূল সময়ে ইরানি জনগণের ইস্পাতকঠিন ঐক্য। পরিষদের মতে, এই ত্রিমুখী শক্তির আঘাতেই ওয়াশিংটন তেহরানের দেওয়া শর্তগুলো মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে।

এসএনএসসি নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন প্রশাসন তেহরানের উত্থাপিত ১০-দফা প্রস্তাব নীতিগতভাবে গ্রহণ করেছে। এই সমঝোতার ফলে আপাতত দুই সপ্তাহের একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। প্রস্তাবের প্রধান দিকগুলো হলো:

  • সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ: হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা।
  • পারমাণবিক স্বীকৃতি: ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
  • নিষেধাজ্ঞা ও ক্ষতিপূরণ: সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান।
  • সৈন্য প্রত্যাহার: মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধকালীন অতিরিক্ত বাহিনী সরিয়ে নেওয়া।


বিজয়োল্লাসের মধ্যেও এক কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় থাকার নির্দেশ দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "আমাদের হাত এখনো ট্রিগারেই রয়েছে।" শত্রু যদি কোনোভাবে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে কিংবা পুনরায় উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করে, তবে ইরান আরও কঠোর ও ‘অনুশোচনামূলক’ জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না।

তেহরানের এই ঘোষণা কেবল একটি সামরিক জয় নয়, বরং এটি বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শেষ করা এই বিবৃতিতে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, পারস্য উপসাগরে এখন থেকে তেহরানের সুরই হবে প্রধান। দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতি স্থায়ী শান্তিতে রূপ নেবে নাকি এটি বড় কোনো ঝড়ের পূর্বাভাস—তা এখন নির্ভর করছে ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.