× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

তেহরানে বিজয়ের উল্লাস, ‘পিছু হটল’ আমেরিকা

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ এএম । আপডেটঃ ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৪ এএম

যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে ঐতিহাসিক জয় হিসেবে উদযাপন করছেন হাজার হাজার ইরানি নাগরিক।

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরপরই এক অভূতপূর্ব উল্লাসে ফেটে পড়েছে ইরানের রাজধানী তেহরান। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা চরম যুদ্ধের উত্তেজনা কাটিয়ে হাজার হাজার মানুষ রাজপথে নেমে এসেছেন। সাধারণ মানুষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব মেনে নিতে ‘বাধ্য’ হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে তেহরানের এক বিশাল কৌশলগত ও কূটনৈতিক বিজয়।

মঙ্গলবার রাত থেকেই তেহরানের প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের ঢল নামে। কেউ জাতীয় পতাকা হাতে, কেউবা বিজয়ের স্লোগান দিয়ে এই দিনটিকে উদযাপন করছেন। সংবাদ সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, এই চুক্তির ফলে আমেরিকা নীতিগতভাবে ইরানে আগ্রাসন না চালানো এবং হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ মেনে নিতে রাজি হয়েছে। ইরানের সাধারণ নাগরিকরা একে কেবল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও সামরিক অবরোধের বিরুদ্ধে একটি সফল প্রতিরোধ হিসেবে দেখছেন।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই ঐতিহাসিক সমঝোতায় ইরানের ওপর আরোপিত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ ও বোর্ড অব গভর্নরসের সকল নেতিবাচক প্রস্তাবের অবসান এবং সংঘাতের কারণে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিষয়েও দেশ দুটি ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন যুদ্ধকালীন অতিরিক্ত সৈন্য প্রত্যাহার।
  • লেবাননের ইসলামিক রেজিস্ট্যান্সসহ সকল ফ্রন্টে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ করা।
  • হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণে ইরানের একচ্ছত্র অধিকার বজায় রাখা।


যদিও তেহরানের আকাশ এখন আতশবাজির আলোয় উজ্জ্বল, তবে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা এই বিজয়কে টেকসই করতে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির খুঁটিনাটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন করা হবে একটি দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া। তাই এই মুহূর্তে আবেগে আপ্লুত না হয়ে বিচক্ষণতার সাথে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।

তেহরানের রাজপথের এই উল্লাস কেবল একটি যুদ্ধ থামার আনন্দ নয়, বরং এটি একটি জাতির স্বাধিকার ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির প্রতিফলন। তবে এই বিজয় কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রতিশ্রুতির যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর। ইতিহাসের পাতায় এই দিনটি মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্যের এক নতুন দিগন্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.