× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরানে ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’: দাবি ট্রাম্পের

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৫ এএম । আপডেটঃ ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫২ এএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানের সাথে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে একে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে অভিহিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর মতে, সামরিক শক্তির হুমকি এবং কৌশলী আলোচনার সমন্বয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে লক্ষ্য অর্জন করতে চেয়েছিল, তা এই সমঝোতার মধ্য দিয়ে ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি কোনো রাখঢাক না করেই বলেন, "ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধবিরতি কেবল সাময়িক বিরতি নয়, বরং এটি যুক্তরাষ্ট্রের এক অভাবনীয় বিজয়। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা যা অর্জন করতে চেয়েছি, তা পূর্ণাঙ্গ রূপ পেয়েছে।"

চুক্তির অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও বলেন, একটি সুনির্দিষ্ট কাঠামোর আওতায় এখন থেকে ইরানের সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়ামের বিষয়টি ‘ঠিকঠাক দেখভাল’ করা হবে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ওয়াশিংটন কেবল হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা নয়, বরং তেহরানের পারমাণবিক সক্ষমতাকে একটি নির্দিষ্ট সীমাবদ্ধতার মধ্যে নিয়ে আসাকেই বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে।

সাক্ষাৎকারে যখন প্রশ্ন তোলা হয় যে, যদি এই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কোনো কারণে ভেস্তে যায়, তবে কি যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় ইরানের বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধ্বংস করার মতো সেই ভয়ংকর হুমকিতে ফিরে যাবে? এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে গিয়ে ট্রাম্প তাঁর স্বভাবসুলভ রহস্যময় ভঙ্গিতে কেবল বলেন, "কী হবে, তা সময় ও পরিস্থিতিই বলে দেবে।"

প্রেসিডেন্টের এই সংক্ষিপ্ত ও শীতল উত্তর ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, সমঝোতার টেবিলে ইরানকে নতিস্বীকার করাতে এখনো সামরিক শক্তির সেই ‘চরম হুমকি’কে তুরুপের তাস হিসেবে নিজের হাতেই রাখছেন তিনি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘বিজয়’ দাবি একদিকে যেমন তাঁর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শক্তির জানান দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরানের ওপর বৈশ্বিক চাপ বৃদ্ধির কৌশল হিসেবেও কাজ করছে। তবে দুই সপ্তাহের এই সংক্ষিপ্ত সময়সীমার মধ্যে ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিশাল লক্ষ্যগুলো কতটা স্থায়ী রূপ পায়, তা নিয়ে এখনো যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণা কেবল একটি রাজনৈতিক বার্তা নয়, বরং এটি ইরানকে একটি নির্দিষ্ট বলয়ের মধ্যে আটকে ফেলার চূড়ান্ত হুশিয়ারিও বটে। সময় এখন কেবল ১৪ দিনের সেই সংক্ষিপ্ত ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে আছে, যার প্রতিটি মুহূর্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ মানচিত্র নির্ধারণ করবে।


তথ্যসূত্র: বিবিসি


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.