× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আল্টিমেটামের ভাষা’ ত্যাগের আহ্বান রাশিয়ার

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩৪ এএম । আপডেটঃ ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩৫ এএম

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ফাইল ছবি: এপি

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশজুড়ে যুদ্ধের ঘনঘটা এবং তেহরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে মার্কিন হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনকে ‘আল্টিমেটামের ভাষা’ পরিহার করার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ স্পষ্ট করেছেন যে, হুমকি ও সামরিক আস্ফালন পরিস্থিতিকে কেবল জটিলতর করছে; বরং আলোচনার টেবিলে ফিরে আসাই এখন একমাত্র সমাধান। রোববার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে ল্যাভরভ এই উদ্বেগের কথা জানান, যা বৈশ্বিক কূটনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলোতে ‘নরক নেমে আসবে’। ট্রাম্পের এই চরমপত্র বা আল্টিমেটামের পরপরই মস্কো তার অবস্থান পরিষ্কার করল। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "যুক্তরাষ্ট্র যদি আল্টিমেটামের ভাষা ত্যাগ করে পরিস্থিতিকে আলোচনার ধারায় ফিরিয়ে আনে, তবে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাগুলো সফল হওয়া অনেক সহজতর হবে।"

ফোনালাপে দুই নেতা বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, বুশেহরের এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে রাশিয়ার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক টেকনিশিয়ান ও কর্মী কর্মরত রয়েছেন। গত শনিবার ওই এলাকার কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর নিরাপত্তা শঙ্কায় মস্কো সেখানে কর্মরত তাদের ১৯৮ জন কর্মীকে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে। ল্যাভরভ ও আরাঘচি যৌথভাবে ওয়াশিংটনকে এ ধরনের ‘অবৈধ হামলা’ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান, যা সরাসরি রুশ নাগরিকদের জীবনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা নিরসনে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। রাশিয়া এই উদ্যোগগুলোকে সমর্থন জানালেও ওয়াশিংটনের একপাক্ষিক নীতির কারণে শান্তি প্রক্রিয়া বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন ল্যাভরভ। বিশ্লেষকদের মতে, মস্কোর এই অবস্থান কেবল ইরানের প্রতি সমর্থন নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের কর্মীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপও বটে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট এখন আর কেবল আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এতে জড়িয়ে পড়েছে রাশিয়ার মতো পরাশক্তিও। ওয়াশিংটনের ‘ম্যাক্সিমাম প্রেশার’ বা সর্বোচ্চ চাপের বিপরীতে মস্কোর এই কূটনৈতিক মধ্যস্থতার আহ্বান কতটুকু কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর। বুশেহর থেকে রুশ কর্মীদের প্রত্যাহার এই ইঙ্গিতই দেয় যে, আলোচনার জানলা ক্রমে বন্ধ হয়ে আসছে এবং বিশ্ব হয়তো একটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.