× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্রিকসের ঐক্যবদ্ধ নিন্দা চায় ইরান

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:২১ এএম । আপডেটঃ ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০০:৩৪ এএম

ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালি। ছবি: এএনআই

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অবৈধ ও অপরাধমূলক’ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জোটগতভাবে কঠোর নিন্দা জানাতে ‘ব্রিকস’ দেশগুলোর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে ইরান। বৈশ্বিক রাজনীতির উদীয়মান শক্তি হিসেবে পরিচিত এই জোটের অন্যতম নতুন সদস্য তেহরান প্রত্যাশা করছে, ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর স্বার্থরক্ষায় ব্রিকস দেশগুলো ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের একপাক্ষিক নীতির বিরুদ্ধে একটি অভিন্ন অবস্থান গ্রহণ করবে। ভারতে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতহালির এই সাম্প্রতিক বক্তব্য ভূ-রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

২০২৪ সালের শুরুতে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রিকস জোটে যোগ দেওয়া ইরান এখন এই বৈশ্বিক মঞ্চকে নিজেদের কূটনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। বর্তমানে ভারতের সভাপতিত্বে থাকা এই জোটে রয়েছে ব্রাজিল, রাশিয়া, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাতহালি স্পষ্ট করেন যে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে মিত্রদের পক্ষ থেকে কেবল মৌখিক সমর্থন নয়, বরং একটি সমন্বিত নিন্দাপ্রস্তাব আশা করছে ইরান। তাঁর মতে, ব্রিকসের মতো বৃহৎ মঞ্চ থেকে এমন প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাবে।

ইরানের এই আহ্বানের বিপরীতে ব্রিকস জোটের ভেতরে এক ধরনের ‘রহস্যজনক নীরবতা’ ও স্বার্থের সংঘাত পরিলক্ষিত হচ্ছে। জোটের দুই প্রধান স্তম্ভ চীন ও রাশিয়া শুরু থেকেই ইরানের অবস্থানের প্রতি নৈতিক সমর্থন দিয়ে এলেও অন্য দেশগুলোর অবস্থান ভিন্ন। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতিমধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সামরিক তৎপরতার তীব্র বিরোধিতা করেছে, কারণ এই যুদ্ধের প্রভাবে দুবাই ও আবুধাবির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, ভারত ও মিসর এই সংকটে এক ধরনের ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ নীতি অবলম্বন করছে। বিশেষ করে ভারত একদিকে যেমন ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক অংশীদার, অন্যদিকে ইসরায়েলেরও অন্যতম ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কৌশলগত সহযোগী।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে নিয়ে আসা ইরানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। জোটটি মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থ এবং ডলারের বিকল্প বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করলেও, মধ্যপ্রাচ্যের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে সদস্যরা এখনো একমত হতে পারেনি। তবে ইরানের এই দাবি যদি জোটে গুরুত্ব পায়, তবে তা পশ্চিমাবিরোধী নতুন একটি মেরুকরণের পথ প্রশস্ত করতে পারে।

ইরানের এই আহ্বান ব্রিকস জোটের ঐক্য এবং কার্যকারিতার জন্য একটি বড় পরীক্ষা। ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জোটগত নিন্দা আদায়ের মাধ্যমে তেহরান নিজেকে বৈশ্বিক একাকীত্ব থেকে মুক্ত করতে চাইছে। তবে ভারতের সভাপতিত্বে থাকা এই জোট শেষ পর্যন্ত মার্কিন বিরোধী কঠোর অবস্থানে যাবে, নাকি সদস্য দেশগুলোর দ্বিপাক্ষিক স্বার্থের কারণে নীরবতা বজায় রাখবে—তা আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনেই স্পষ্ট হবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুনের আঁচ এখন ব্রিকসের আলোচনার টেবিলে কতটুকু উত্তাপ ছড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।


তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.