ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এপি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার সরাসরি ইরানের তেলখনিগুলো ‘দখল’ করে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন যে, চলতি বছরের শুরুতে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের হাতে বিপুল পরিমাণ মারণাস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ওয়াশিংটন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ফক্স নিউজ’-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই বিস্ফোরক মন্তব্য তেহরান-ওয়াশিংটন সংঘাতকে এক নতুন এবং বিপজ্জনক মোড়ে ঠেলে দিয়েছে।
রবিবার সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় জানান, তেহরান যদি অবিলম্বে ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তে চুক্তিতে না আসে, তবে মার্কিন বাহিনী ইরানের তেলখনিগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে দ্বিধা করবে না। তিনি বলেন, "যদি তারা দ্রুত সমঝোতায় না পৌঁছায়, তবে আমি সবকিছু উড়িয়ে দেওয়ার এবং তাদের তেলখনিগুলো সরাসরি দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা করছি।" এই সাক্ষাৎকারের আগে নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ সেতুগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালানোর হুমকি দেন এবং অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্যটি ছিল ইরানি বিক্ষোভকারীদের সশস্ত্র করার বিষয়ে ট্রাম্পের সরাসরি স্বীকারোক্তি। তিনি প্রথমবার জনসমক্ষে স্বীকার করেন যে, ইরান সরকারের দমন-পীড়নের মুখে থাকা আন্দোলনকারীদের সহায়তায় কুর্দি মিলিশিয়া বাহিনীর মাধ্যমে প্রচুর অস্ত্র পাঠিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই গোপন অভিযানটি সফল হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, "আমরা বিক্ষোভকারীদের জন্য অনেক অস্ত্র পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু আমার ধারণা কুর্দিরাই সেই অস্ত্রগুলো নিজেদের কাছে রেখে দিয়েছে।" মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে ওয়াশিংটনকে বড় ধরনের কূটনৈতিক বিতর্কের মুখে ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হুমকির পাশাপাশি ট্রাম্প কিছুটা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সম্ভবত আগামীকালের মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারবে হোয়াইট হাউস। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একদিকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান এবং অন্যদিকে তেলখনি দখল ও নাশকতামূলক হামলার হুমকি মূলত ইরানের ওপর ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের একটি কৌশল। তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই হুমকির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন এই উসকানিমূলক বক্তব্য সংঘাত প্রশমনের বদলে যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক অবস্থান কেবল ইরান নয়, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। সার্বভৌম একটি রাষ্ট্রের জ্বালানি সম্পদ দখলের প্রকাশ্য হুমকি এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে অস্ত্র সরবরাহের স্বীকারোক্তি আন্তর্জাতিক কূটনীতির ইতিহাসে এক বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনা। আগামী ২৪ ঘণ্টা নির্ধারণ করবে বিশ্ব কি আরও একটি ভয়াবহ যুদ্ধের দিকে ধাবিত হচ্ছে, নাকি পর্দার আড়ালে কোনো নাটকীয় চুক্তির মাধ্যমে এই সংকটের সমাধান মিলবে।
তথ্যসূত্র: এপি
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
