× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

যুক্তরাষ্ট্রে সোলাইমানির স্বজনরা গ্রেফতার, বাতিল হচ্ছে গ্রিন কার্ড

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৩ এএম । আপডেটঃ ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৩ এএম

ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিসি) প্রয়াত কমান্ডার জেনারেল কাসেম সোলাইমানির নিকটাত্মীয়দের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি (গ্রিন কার্ড) বাতিল করে তাঁদের হেফাজতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে যে, সোলাইমানির ভাইঝি এবং তাঁর কন্যাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁদের দেশ থেকে বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপকে ভূ-রাজনৈতিক মহলে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কাসেম সোলাইমানির ভাইঝি হামিদেহ সোলাইমানি আফশার এবং তাঁর কন্যার যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের বৈধ মর্যাদা বা গ্রিন কার্ড বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেন, এই দুই নারী বর্তমানে ‘ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট’ (আইসিই)-এর হেফাজতে রয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, হামিদেহ সোলাইমানি আফশার ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ও তাদের কর্মকাণ্ডের একজন কট্টর সমর্থক। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানি ব্যবস্থার পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন। বিবৃতিতে হামিদেহকে "ইরানের সর্বাধিপত্যবাদী ও সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থার স্পষ্টভাষী সমর্থক" হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের আওতায় হামিদেহের স্বামীকেও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, যদিও গোপনীয়তার খাতিরে তাঁর স্বামী ও কন্যার নাম প্রকাশ করেনি প্রশাসন।

২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দরে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন তৎকালীন আইআরজিসি প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। সেই সময় হোয়াইট হাউসের মসনদে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। চার বছর পর সোলাইমানির পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং তাঁদের গ্রেফতারের ঘটনাটি ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান-নীতির ধারাবাহিকতা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা। মার্কো রুবিও তাঁর পোস্টে উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, "সোলাইমানি আফশার ও তাঁর মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিলাসবহুল জীবনযাপনকারী গ্রিন কার্ডধারী ছিলেন," যা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী বলে ইঙ্গিত দেয় ওয়াশিংটন।

কাসেম সোলাইমানির স্বজনদের বিরুদ্ধে এই কঠোর ব্যবস্থা কেবল একটি ইমিগ্রেশন ইস্যু নয়, বরং এটি তেহরানের প্রতি ওয়াশিংটনের একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বার্তা। একদিকে যখন মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বলয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন, অন্যদিকে নিজ দেশের অভ্যন্তরে শত্রুভাবাপন্ন আদর্শের সমর্থকদের অবস্থান সীমিত করার এই প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। এই বহিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের তিক্ততা আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.