× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরানে দুই মার্কিন বিমান ধ্বংস, কোণঠাসা ট্রাম্প

ন্যাশনাল ট্রিবিউন প্রতিবেদক

০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২০ এএম । আপডেটঃ ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৩ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরানের আকাশসীমায় প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের দুটি শক্তিশালী যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ওয়াশিংটন। অত্যাধুনিক এফ-১৫ই এবং এ-১০ মডেলের বিমান দুটি ধ্বংস হওয়ার পাশাপাশি একজন মার্কিন পাইলট নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধের ৩৬তম দিনে এসে এই ঘটনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবির মুখে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন ছুড়ে দিয়েছে, যা তাঁকে নিজ দেশে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও কৌশলগত চাপের মুখে ফেলেছে।

শনিবার যুদ্ধের ৩৬তম দিনেও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিধ্বংসী পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত ছিল। তবে শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে নীরব থাকলেও বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, নিখোঁজ পাইলটকে উদ্ধারে পরিচালিত এক অভিযানে অংশ নেওয়া দ্বিতীয় বিমানটিও (এ-১০) ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার শিকারে পরিণত হয়। ইরান দাবি করেছে, তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেই এই সাফল্য এসেছে।

রণক্ষেত্রে এই ক্ষতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব তীব্রতর হচ্ছে। রয়টার্স-ইপসসের সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, দুই-তৃতীয়াংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধের দ্রুত অবসান চান। বিশেষ করে ৮৬ শতাংশ নাগরিক মনে করছেন, এই যুদ্ধে মার্কিন সেনাদের জীবন অযথা ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

রাজনৈতিকভাবেও ট্রাম্প কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। খোদ রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতারাও এখন যুদ্ধের ব্যয়ভার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতা জন কার্টিস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া তিনি যুদ্ধের নতুন কোনো তহবিলে সমর্থন দেবেন না। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর পলিসি স্টাডিজ’-এর গবেষক ফিলিস বেনিস আল-জাজিরাকে বলেন, "এই ঘটনা ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের মধ্যেও সংশয় তৈরি করবে, যা হোয়াইট হাউসের জন্য ব্যাখ্যা করা কঠিন হয়ে পড়বে।"

হাতিয়ার ইরানের কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশে নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে পেতে পুরস্কার ঘোষণা করেছে তেহরান। চ্যাথাম হাউসের গবেষক লরেল র‍্যাপ মনে করেন, "ইরান যদি পাইলটকে জীবিত আটক করতে পারে, তবে সেটি হবে তাদের জন্য ‘বিরাট পুরস্কার’। এটি যুদ্ধ বন্ধের দর-কষাকষিতে তেহরানের হাতে একটি শক্তিশালী তুরুপের তাস তুলে দেবে।"

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩,৩০০ জন নিহত এবং ৩০,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ঘরবাড়ি হারিয়েছেন প্রায় ৪৩ লাখ মানুষ। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

ইরানকে দেওয়া আলটিমেটামের সময় ফুরিয়ে আসায় ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, "আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা। এরপর তাদের ওপর নরক নেমে আসবে।" বিপরীতে ইরান বাব আল-মান্দেব প্রণালি বন্ধের ইঙ্গিত দিয়ে পাল্টা চাপের কৌশল নিয়েছে। বিশ্বের ১৪ শতাংশ বাণিজ্যিক পণ্য এই পথে পরিবাহিত হয়, যা বন্ধ হলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ইরানের আকাশে মার্কিন আধিপত্যের অবসান এবং পাইলট নিখোঁজের এই ঘটনা কেবল সামরিক পরাজয় নয়, বরং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির এক গভীর সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একদিকে রণক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি, অন্যদিকে দেশে ক্রমবর্ধমান জনরোষ—এই দ্বিমুখী চাপে ওয়াশিংটন এখন কোন পথে হাঁটবে, তার ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।


তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও আল–জাজিরা


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.