× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরান যুদ্ধ থেকে সসম্মানে ফেরার পথ খুঁজছেন ট্রাম্প

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৬ এএম । আপডেটঃ ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:১৮ এএম

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও পিট হেগসেথ। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইরান অভিযানের তৃতীয় সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্প বসলেন, তখন বাইরের পৃথিবী এক ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত জনমত জরিপকারী টনি ফ্যাব্রিজিওর আনা রিপোর্টটি ছিল প্রেসিডেন্টর জন্য এক ‘অপ্রীতিকর’ বাস্তবতার প্রতিফলন। জরিপ বলছে, ট্রাম্পের শুরু করা এই যুদ্ধ দ্রুত জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। ১৩ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু, প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম চার ডলার ছাড়ানো এবং ধসে পড়া শেয়ারবাজার—সব মিলিয়ে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের ভরাডুবির স্পষ্ট সংকেত পাচ্ছেন উপদেষ্টারা।

ট্রাম্পের চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এখন এক কঠিন মিশনে। তাকে বোঝাতে হচ্ছে যে, যুদ্ধের ভিডিও ক্লিপে দেখা ‘সাফল্য’ আর জনমতের ‘বাস্তবতা’ এক নয়। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ওয়াইলস তার সহকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্টের সামনে ‘অতিরঞ্জিত ইতিবাচক’ ছবির বদলে রূঢ় সত্য তুলে ধরতে। কারণ, ট্রাম্প যে অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, এই যুদ্ধ তার মূলে কুঠারাঘাত করছে।

আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বড় জ্বালানি সংকটে থমকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির চাকা। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপ ও এশিয়াকেও মন্দার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। জ্বালানি ব্যবসায়ীরা সতর্ক করেছেন, এই বিপর্যয়ের আসল রূপ এখনো উন্মোচিত হয়নি। এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতির কারণেই ট্রাম্প এখন মরিয়া হয়ে ‘এক্সিট স্ট্র্যাটেজি’ বা যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন।

তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের মতে, ট্রাম্প এমন একটি সমাধান চাইছেন যা একই সঙ্গে ‘বিজয়’ হিসেবে গণ্য হবে এবং রাজনৈতিক ক্ষতি স্থায়ী হওয়ার আগেই অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করবে। প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রেসিডেন্টের সামনে সুযোগের জানালাটি অত্যন্ত সংকীর্ণ। তিনি অপারেশন গুটিয়ে নিতে চান, কিন্তু তা হতে হবে একটি ‘চূড়ান্ত সাফল্যের’ মোড়কে।”

১ এপ্রিল জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প চিরচেনা দম্ভভরে বলেছিলেন, “সব তাস আমাদের হাতে।” তিনি ইরানকে ‘প্রস্তরযুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে দাবি করেন, অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’র মাধ্যমে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে। এমনকি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার খবরও পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে।

কিন্তু এই দম্ভের আড়ালে লুকিয়ে আছে গোয়েন্দা ব্যর্থতার গ্লানি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তেহরানের পাল্টা হামলার তীব্রতায় বিস্মিত হয়েছেন। কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ‘নিরাপদ’ দেশগুলোতে ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর হামলা মার্কিন সমরবিদদের হিসাব ওলটপালট করে দিয়েছে। হেগসেথ শুরুতে দাবি করেছিলেন, সীমিত শক্তি প্রয়োগে ইরানকে দমানো সম্ভব; কিন্তু বাস্তবতা প্রমাণ করেছে তেহরান কেবল ‘লোকদেখানো’ প্রতিশোধে সীমাবদ্ধ নেই।

যুদ্ধের লক্ষ্য ছিল তেহরানের পারমাণবিক স্বপ্ন ধূলিসাৎ করা এবং একটি ‘বন্ধুভাবাপন্ন’ শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু তিন সপ্তাহ শেষে সেই লক্ষ্য অর্জনের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের চোরাবালিই বেশি দৃশ্যমান হচ্ছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তিনি লড়াই তীব্র করলেও প্রাণঘাতী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ওপর নির্ভর করবেন না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “চেইন অব কমান্ড সর্বদা মানুষের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।”

ট্রাম্প এখন দুই নৌকায় পা দিয়ে চলছেন—একদিকে লড়াই আরও তীব্র করার অঙ্গীকার, অন্যদিকে আলোচনার টেবিলে ফেরার আকুতি। তিনি বিশ্বাস করেন, ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ইরান হয়তো ‘সহজ আলোচনায়’ রাজি হবে। তবে যুদ্ধের শেষ পরিণতি এখনো কুয়াশাচ্ছন্ন। ট্রাম্প কি পারবেন সসম্মানে এই যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে, নাকি এই সংঘাতই হবে তার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা—সেই উত্তর দেবে আগামী কয়েক সপ্তাহ।


তথ্যসূত্র: টাইম


National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.