মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের জরুরি বৈঠক। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ইরান যুদ্ধের ময়দানে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য না পাওয়া এবং ঘরে-বাইরে প্রবল চাপের মুখে মার্কিন প্রশাসনে এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় রদবদল শুরু করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পেন্টাগন থেকে শুরু করে এফবিআই এবং মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো থেকে শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার এই ঘটনাকে আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘যুদ্ধকালীন শুদ্ধি অভিযান’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এই গণ-বরখাস্তের নেপথ্যে কি কেবলই ব্যর্থতার গ্লানি, নাকি ইরানকে মানচিত্র থেকে মুছে দিতে কোনো ভয়াবহ পারমাণবিক হামলার নীল নকশা—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে তুমুল জল্পনা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধের মাঝপথেই মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ নেতৃত্বে কুঠারাঘাত করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সেনাবাহিনী প্রধান (চিফ অব আর্মি স্টাফ) জেনারেল রেন্ডি জর্জসহ শীর্ষ তিন জেনারেলকে তাৎক্ষণিকভাবে পদচ্যুত করা হয়েছে। বরখাস্ত হওয়া অন্য দুই প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা হলেন জেনারেল ডেভিড হোডনে এবং উইলিয়াম গ্রিন জুনিয়র। স্থল অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মাহেন্দ্রক্ষণে এ ধরনের শীর্ষ পর্যায়ের রদবদল মার্কিন সামরিক কাঠামোর ভেতরে বড় ধরনের অস্থিরতা ও সমন্বয়হীনতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেবল রণক্ষেত্র নয়, ট্রাম্পের কোপানলে পড়েছেন খোদ হোয়াইট হাউসের নীতিনির্ধারকরাও। এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেলকে বরখাস্ত করার বিষয়ে জোর আলোচনা চলছে। এর আগে বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে সরিয়ে দিয়ে প্রশাসনকে স্তম্ভিত করে দেন ট্রাম্প। ছাঁটাইয়ের এই দীর্ঘ তালিকায় রয়েছেন আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকল এবং শ্রমমন্ত্রী লরি শাফেজও। ক্ষমতায় আসার মাত্র ১৬ মাসের মাথায় নিজের নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তাদের এভাবে সরিয়ে দেওয়া ট্রাম্প প্রশাসনের চরম অভ্যন্তরীণ সংকট ও আস্থার অভাবকেই স্পষ্ট করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে দ্রুত ধ্বংস করার যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, রণক্ষেত্রের বাস্তবতা তার উল্টো। যৌথ বাহিনীর তীব্র আক্রমণের মুখেও তেহরান এখনো শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলছে এবং আত্মসমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় মার্কিন জনগণের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ এবং কংগ্রেসকে উপেক্ষা করে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি ট্রাম্পকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, নিজের ব্যর্থতা ঢাকতেই কর্মকর্তাদের বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন প্রেসিডেন্ট। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ বলছে অন্য কথা—ইরানের ওপর চূড়ান্ত কোনো আঘাত বা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মতো চরম সিদ্ধান্তের পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের সরিয়ে দিয়ে পথ পরিষ্কার করছেন ট্রাম্প।
ওয়াশিংটনের এই রথবদল কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি একটি অশনি সংকেত। ট্রাম্পের ‘ইরান ধ্বংসের’ হুঙ্কার যখন বাস্তবায়িত হচ্ছে না, তখন এই হঠকারী সিদ্ধান্তগুলো পৃথিবীকে এক ধ্বংসাত্মক পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। যদি এই রদবদলের শেষ গন্তব্য হয় পারমাণবিক বোমার বোতাম, তবে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের অস্তিত্বকেই বিপন্ন করে তুলবে। ওয়াশিংটনের করিডোরে এখন একটাই প্রশ্ন—প্রেসিডেন্ট কি শান্তিতে ফিরবেন, নাকি ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বিজয়ের উল্লাস করবেন?
বিষয় : মার্কিন প্রশাসন
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন
যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574
ই-মেইল: [email protected]
ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭
© 2026 National Tribune All Rights Reserved. Design & Developed By Root Soft Bangladesh
