× প্রচ্ছদ জাতীয় রাজনীতি অর্থনীতি সারাদেশ আন্তর্জাতিক খেলা বিনোদন ফিচার প্রবাস সকল বিভাগ
ছবি ভিডিও লাইভ লেখক আর্কাইভ

ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের পথে আমিরাত

ন্যাশনাল ট্রিবিউন ডেস্ক

০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম । আপডেটঃ ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৭ এএম

বাহরাইনের মানামায় যৌথ সামরিক মহড়া পরিদর্শনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল-নাহিয়ান ও বাহরাইনের বাদশাহ হামাদ বিন ইসা আল-খলিফা। ছবি: এএফপি

পারস্য উপসাগরের দীর্ঘদিনের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ পাল্টে দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শক্তি প্রয়োগ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর সামরিক জোটে প্রথম আরব দেশ হিসেবে নাম লেখাতে যাচ্ছে আবুধাবি। তেহরানের ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখে আমিরাতের এই নীতিগত পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনির্দিষ্টকালের মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিতে আবুধাবি বর্তমানে ইউরোপ ও এশিয়ার দেশগুলোকে নিয়ে একটি শক্তিশালী সামরিক জোট গঠনের জোর তৎপরতা চালাচ্ছে। এই পদক্ষেপের বৈধতা পেতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাসের জন্য তদবির করছে দেশটি। আমিরাতের আশঙ্কা, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে থাকা ইরান বৈশ্বিক অর্থনীতিকে ধসিয়ে দিতে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে। এই হুমকি মোকাবিলায় সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণসহ সরাসরি সম্মুখ সমরে অংশ নিতেও পিছপা হবে না আমিরাত।

কৌশলগত এই যুদ্ধে আমিরাতের অন্যতম লক্ষ্য হলো দশকের পর দশক ধরে ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘আবু মুসা’সহ বিতর্কিত দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া। আরব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দ্বীপগুলো উদ্ধারে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য ওয়াশিংটনকে সবুজ সংকেত দিয়েছে আবুধাবি। এদিকে, বাহরাইনে মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের স্বাগতিক দেশ হিসেবে আজ বৃহস্পতিবার জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করার কথা রয়েছে, যা ইরানের বর্তমান সরকারকে অচল বা ক্ষমতাচ্যুত না করা পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পথ প্রশস্ত করতে পারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মিত্রদের যুদ্ধের ব্যয় ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়ার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর বার্তার পরই আমিরাতের এই মারমুখী অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। অথচ যুদ্ধের আগে এই দুবাই ছিল ইরানের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং আবুধাবি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছিল। কিন্তু সম্প্রতি আমিরাতের ওপর ইরানের হামলার তীব্রতা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায়—বিশেষ করে গত মঙ্গলবার একযোগে ৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার পর—আবুধাবি তাদের কৌশলগত অবস্থান বদলে বাধ্য হয়েছে।

পেন্টাগনের সাবেক কর্মকর্তা এলিজাবেথ ডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, আমিরাতের এই যুদ্ধংদেহী অবস্থান দেশটির দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও অবকাঠামোকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তেহরান ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, কোনো প্রতিবেশী দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড দখলের অভিযানে সহায়তা করে, তবে তাদের বেসামরিক অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। যদি ডোনাল্ড ট্রাম্প পূর্ণ বিজয় নিশ্চিত করার আগেই যুদ্ধ সমাপ্তি ঘোষণা করেন, তবে প্রতিবেশী ইরানের সাথে ভবিষ্যতে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করা আমিরাতের জন্য এক অসম্ভব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

হরমুজ প্রণালির নীল জলরাশি এখন কেবল তেলের ট্যাঙ্কার নয়, বরং বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এই সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যকে চিরতরে বদলে দিতে পারে। কূটনীতির টেবিল যখন কামানের গোলার শব্দে ঢাকা পড়ে যায়, তখন কেবল একটি অঞ্চলের নিরাপত্তা নয়, বরং গোটা বিশ্বের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এক খাদের কিনারায় এসে দাঁড়ায়।


তথ্যসূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল

National Tribune

সম্পাদক ও প্রকাশক: মো. আলী হোসেন

যোগাযোগ: +880244809006 ,01922575574

ই-মেইল: [email protected]

ঠিকানা: ২২০/১ (৫ম তলা), বেগম রোকেয়া সরণি, তালতলা, আগারগাঁও, পশ্চিম কাফরুল, ঢাকা-১২০৭

আমাদের সঙ্গে থাকুন

© 2026 National Tribune All Rights Reserved.