ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের স্থল অভিযানের পরিকল্পনাকে ‘চরম বিপর্যয়’ ও ‘ঐতিহাসিক ভুল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার স্টিভ এন্ডারসন। ইরাক ও আফগানিস্তানে মার্কিন স্থল অভিযানের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কমান্ডার স্পষ্ট ভাষায় মার্কিন সরকারকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে সেনা পাঠানোর চিন্তা করাও হবে এক ভয়াবহ আত্মহনন। তার মতে, তেহরানের সামরিক সক্ষমতা ও কৌশল সম্পর্কে ওয়াশিংটনের ধারণা এখনো অস্পষ্ট, যা হাজার হাজার মার্কিন সেনার জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এমএস নাও’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ব্রিগেডিয়ার এন্ডারসন বলেন, “প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার উপদেষ্টারা দেশটিকে এক বৃহত্তম ভূ-রাজনৈতিক সংকটের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। ইরান ইস্যুটি তারা অত্যন্ত অদূরদর্শী ও নিকৃষ্টভাবে পরিচালনা করছেন।” তিনি মনে করেন, পারস্য উপসাগরের রণকৌশলে ইরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কয়েক ধাপ এগিয়ে থাকার সামর্থ্য রাখে।
বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, ইরান কর্তৃক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় হোয়াইট হাউস বর্তমানে দিশেহারা। দর কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের দ্বীপগুলোতে—বিশেষ করে তেল সমৃদ্ধ ‘খার্গ দ্বীপে’—স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। এন্ডারসনের মতে, এই পরিকল্পনা কেবল একটি ভুল নয়, বরং এটি মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম বড় ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মার্কিন এই সিনিয়র জেনারেল অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, “আমরা এখনও ইরানকে এবং তাদের যুদ্ধের ধরণকে ভালোভাবে চিনি না। তারা আমাদের পরাজয়ের ষোলকলা পূর্ণ করতে প্রস্তুত। অথচ রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ চরিতার্থ করতে ট্রাম্প হাজার হাজার মার্কিন সেনার জীবন বিপন্ন করছেন।” সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্কের কারণে যেকোনো স্থল হামলা ওয়াশিংটনের জন্য একটি অন্তহীন চোরাবালিতে পরিণত হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান এই উত্তেজনা এখন আর কেবল বাকযুদ্ধে সীমাবদ্ধ নেই। ব্রিগেডিয়ার স্টিভ এন্ডারসনের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরীণ সামরিক মহলে বিদ্যমান অস্থিরতা ও বিভেদকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। কূটনৈতিক পথে না হেঁটে হঠকারী কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে তার দায়ভার কেবল বর্তমান প্রশাসনকেই নয়, বরং পুরো বিশ্ব অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতাকেও বহন করতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।